||
দলীয় সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারাদেশে একযোগে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বিএনপি ৫৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী এবং পৃথক সিদ্ধান্তে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও ৬৯ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত সকলকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, দাখিল কিংবা নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেই এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বহিষ্কৃত ৫৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর তালিকায় বিভিন্ন বিভাগের নেতারা রয়েছেন। রংপুর বিভাগে দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানা রয়েছেন। রাজশাহী বিভাগে নওগাঁ-৩ আসনের পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১ আসনের তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ আসনের দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ আসনের ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ আসনের কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ আসনের জাকারিয়া পিন্টু রয়েছেন।
খুলনা বিভাগে কুষ্টিয়া-১ আসনের নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ আসনের মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ আসনের অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ আসনের ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ এবং বাগেরহাট-৪ আসনের খায়রুজ্জামান শিপন বহিষ্কৃত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান এবং পিরোজপুর-২ আসনের মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন রয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল-১ আসনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ আসনের অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, নরসিংদী-৫ আসনের জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের মো. মুমিন আলী এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের মো. মহিউদ্দিন রয়েছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০ আসনের এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ আসনের মো. মোর্শেদ আলম, নেত্রকোনা-৩ আসনের মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং শেরপুর-৩ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ বহিষ্কৃত হয়েছেন।
ফরিদপুর বিভাগে মাদারীপুর-১ আসনের লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরউদ্দিন মোল্লা, মাদারীপুর-২ আসনের মিল্টন বৈদ্য, রাজবাড়ী-২ আসনের নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২ আসনের এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব রয়েছেন।
সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫ আসনের মামুনুর রশীদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনের মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ আসনের শেখ সুজাত মিয়া বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন।বরিশাল বিভাগ বরিশাল-১ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান।
কুমিল্লা বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, কুমিল্লা-২ আসনের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন এবং চাঁদপুর-৪ আসনের এম এ হান্নান রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, নোয়াখালী-২ আসনের কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ আসনের প্রকৌশলী ফজলুল আজীম এবং ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দিন রাজীব বহিষ্কৃত হয়েছেন।
এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আরও ৬৯ জন নেতাকেও পৃথক সিদ্ধান্তে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনী বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।