সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন মনোযোগ দিয়ে পান চাষিদের সমস্যা, দাবি ও সম্ভাবনার কথা শোনেন। এ সময় পান চাষিরা বলেন, বর্তমানে পান চাষ একটি ব্যয়বহুল পেশায় পরিণত হয়েছে। সার ও কীটনাশকের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলেও সরকারিভাবে তারা কোনো প্রকার সহায়তা পাচ্ছেন না। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক চাষি লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
চাষিরা আরও জানান, দেশের উৎপাদিত পান বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা গেলে তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং এ খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এজন্য সরকারের সুস্পষ্ট নীতি, রপ্তানি সুবিধা ও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
পান চাষিদের দাবির জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে পান চাষিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আপনাদের সব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পান রপ্তানির বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পান একটি পরিচিত পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পান থেকে ঔষধ বা মেডিসিন তৈরি করা যায় কি না, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমার সঙ্গে একাধিক ল্যাবরেটরির যোগাযোগ রয়েছে। পানকে কীভাবে ঔষধি বা শিল্পখাতে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করব, বলেন তিনি।
এ সময় তার সাথে ছিলেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরিফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, দৈনিক ভোরের কাগজের সাবেক চিফ রিপোর্টার খোন্দকার কাওছার হোসেন, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান মনির, গৌরনদী পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এস.এম মনিরুজ্জামান, পৌর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোঃ শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এস.এম জুলফিকার, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এম. আলম প্রমূখ।
সমাবেশে উপস্থিত পান চাষি ও আড়ত মালিকরা জহির উদ্দিন স্বপনের আশ্বাসে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের পাশে থাকার প্রত্যাশা জানান। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমাবেশটির সমাপ্তি ঘটে।