ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নগরবাসীর সেবা প্রদান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক সুজান গিন্ডেল ও সহকারী মো. মাসুক হায়দারের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বলে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাদের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, বর্তমানে সারাদেশে তিনিই একমাত্র নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে পরাজিত করা হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে আদালতের রায়ে তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যান্য সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন না করায় প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, চসিকে তার সঙ্গে ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কাউন্সিলর না থাকায় নগর পরিচালনায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে একই দিনে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হচ্ছে, যা সেবা কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে।মেয়র বলেন, দ্রুততম সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই সরকারের উন্নয়ন মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল জানায়, বাংলাদেশের জাতীয় আইনি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে সংসদীয় নির্বাচনের মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মিশনটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনি ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।