ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
সাংবাদিক: সোয়েব সিকদার১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপি নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া এই মুহূর্তে প্রশাসনের ভেতরে এক অদ্ভুত চিত্র ফুটে উঠেছে।বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, রাতারাতি “সবাই এখন বিএনপি” হয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গত আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তা এখন নিজেদের বংশলতিকায় দলের ‘সংযোগ’ খুঁজছেন। কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ ফেলে তদবিরে সময় দিচ্ছেন। এ প্রবণতা শুধু একটি দলের জন্য বিব্রতকর নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার জন্যও বড় হুমকি।যারা দীর্ঘদিন পদোন্নতিবঞ্চিত, নিগৃহীত বা প্রান্তিক অবস্থানে ছিলেন, তাদের জন্য ইনসাফভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলা নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কিন্তু যদি চাটুকারিতা ও সুবিধাবাদ আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলে রাখে, তবে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও সংস্কারের পরিকল্পনা শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়বে।এক দক্ষ সাবেক আমলার ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ‘নিজের লোক’ খোঁজা সংস্কৃতি পরিহার করে মেধা, দক্ষতা ও সততাকে একমাত্র মানদণ্ড করলে প্রশাসনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা তিন মাসের বেশি সময় লাগার কথা নয়। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখছে, সচিব নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে এটাই তাদের প্রকৃত ‘অ্যাসিড টেস্ট’।ইতিবাচক দিক হলো, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বন্ধ এবং মেধাভিত্তিক ক্যারিয়ার প্ল্যানিং নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে এমন উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি; এবার তা যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে নজরদারি জরুরি।গত ১৭ বছরে প্রশাসনের ভেতরে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা রাতারাতি সারানো সম্ভব নয়। তবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও জবাবদিহিমূলক সূচনা অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে রাষ্ট্রকে। সুবিধাবাদীরা আবারও আধিপত্য বিস্তার করলে দীর্ঘদিনের বঞ্চিতদের ক্ষোভ ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।চাটুকারমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনই হতে পারে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার শক্তিশালী ভিত্তি। এখন দেখার বিষয় পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে কথার চেয়ে কতটা কাজে প্রতিফলিত হয় সেই অঙ্গীকার।