পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পেট্রোল না পেয়ে 'মেসার্স সরকার ফিলিং স্টেশন' নামে একটি পাম্পে হামলা করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাত পৌনে ১২ টায় দেবীগঞ্জ পৌরসভার কলেজ পাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশের ন্যায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেবীগঞ্জ পৌরসভার 'মেসার্স সরকার ফিলিং স্টেশন' এ চার দিন পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পার্বতীপুর ডিপো থেকে তেলের লড়ি পাম্পে পৌঁছায়। এদিন পাম্পে সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল ও ২ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। তেল আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই চার থেকে পাঁচশ মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়, যার ফলে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পাম্প কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পেট্রোল বিক্রি চালিয়ে যায়। পরে পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হলে লাইনে থাকা অনেক মোটরসাইকেল চালক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। জরুরি পরিসেবা সচল রাখতে ২০০ লিটার পেট্রোল রিজার্ভ রাখা হয় বলে জানানো হয় উপস্থিত মোটরসাইকেল চালকদের। এই সময় পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ কিছু মোটরসাইকেল চালক পাম্প লক্ষ্য করে ঢিল নিক্ষেপ করেন। এতে ক্যাশ কাউন্টারের জানালার গ্লাস ভেঙে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্বে একই বরাদ্দে পেট্রোল-ডিজেল-অকটেন ৪-৫ দিন সরবরাহ অব্যাহত থাকতো। কিন্তু এখন যে দিন তেল আসছে সেদিনই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উপস্থিত লোকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, তেল থাকার পরও দেওয়া হচ্ছিল না বলে মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ ছিল। প্রকৃতপক্ষে তেল শেষ হয়ে গেছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল।