মোঃ সুজন শরিফ, বরিশাল গৌরনদী প্রতিনিধি ||
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ মিজানুর রহমান মুকুল খান তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ৪৭ বছর পূর্ণ করেছেন। ১৯৭৯ সালে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনীতি আমার কাছে শুধু ক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মানুষের সেবা করার একটি মহান দায়িত্ব। শুরু থেকেই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং আগামীতেও সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।জানা যায় ছাত্রজীবনে সরকারি গৌরনদী কলেজের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং অল্প সময়েই ছাত্রসমাজের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি গৌরনদী পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং গত পাঁচ বছর ধরে দক্ষতার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে জেলার বিএনপি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।দলীয় নেতাকর্মীদের মতে মিজানুর রহমান মুকুল খান একজন নিরহংকারী, পরিশ্রমী ও দূরদর্শী নেতা। তিনি সবসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তাদের সমস্যা শোনেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন, ধর্মীয় মাহফিল আয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা এবং বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি জানান মুকুল খান সবসময় আমাদের খোঁজখবর নেন। যে কোনো বিপদে আমরা তাকে পাশে পাই। তাঁর মতো নেতা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। সাধারণ জনগণের মাঝেও তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।এছাড়া তিনি বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনের আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার সর্বস্তরের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ৪৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা ভবিষ্যতেও দলকে আরও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতি ও জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা এই নেতা আগামী দিনগুলোতেও দেশের গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চান। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।