মোঃ সুজন শরিফ, বরিশাল গৌরনদী প্রতিনিধি ||
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বড় কসবা পূর্ব পাড়ায় চরম দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মৃত হোসেন ফকিরের ছেলে মোঃ আকতার উদ্দিন ফকির। নেই কোনো নিজস্ব জমি বা স্থায়ী ঠিকানা অন্যের জমিতে প্লাস্টিকের ব্যারা ও ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরই তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই আকতার ফকির এই অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে, আর রোদ উঠলে সেই ভেজা ঘরেই শুকাতে হয় কাপড়-চোপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ঝড়-বৃষ্টি এলে মুহূর্তেই বসতঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তীব্র গরমে পলিথিনে মোড়ানো ঘরটি পরিণত হয় চুল্লির মতো, আর শীতকালে হিমেল বাতাস ঢুকে পড়ে অবাধে।সবচেয়ে করুণ বিষয় হলো, আকতার উদ্দিন ফকির নিজেই শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে তিনি কোনো প্রকার শ্রমমূলক কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী তার স্ত্রী রুপবান বেগম। তিনি অন্যের বাসায় কাজ করে সামান্য যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনোরকমে চলে তাদের জীবিকা।রুপবান বেগম জানান, আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। আমার স্বামী অসুস্থ, কোনো কাজ করতে পারে না। এই ঘরে থাকা যায় না বৃষ্টি এলে ভিজে যাই, রোদে শুকাই। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। শিয়াল-কুকুরের ভয় আছে, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না।তিনি আরও বলেন, আমাদের দুই ছেলে আছে, কিন্তু তারা আলাদা হয়ে ভাড়া বাসায় থাকে। তারা নিজেদের মতো কষ্টে আছে, আমাদের তেমন সহযোগিতা করতে পারে না। আমরা একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছি।সরকারি সহায়তা প্রসঙ্গে রুপবান বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা শুনি সরকার থেকে ঘর দেয়, টিন দেয়, অনেকেই পায়। কিন্তু আমরা এতদিনেও কিছুই পেলাম না। অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছি। সরকার যদি আমাদের একটা থাকার মতো ঘর করে দিত, তাহলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতাম।স্থানীয় এলাকাবাসীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, আকতার ফকিরের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মতে, এই পরিবারটি সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্প বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা জরুরি।এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তাদের জন্য একটি স্থায়ী ঘর এবং চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয় প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। আকতার ফকিরের মতো অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালে তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা।