মোঃ সুজন শরিফ, বরিশাল গৌরনদী প্রতিনিধি ||
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক দৃঢ়চেতা নেতা হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন সাইয়েদুল আলম সেন্টু খান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি আজ বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে এক পরিচিত ও পরীক্ষিত মুখ।বর্তমানে তিনি বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে দলকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।সেন্টু খানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৮৭ সালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদল ও পরবর্তীতে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন এবং নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে নিজেকে আলাদা করে তোলেন।বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের লেবুতলী গ্রামের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে তার জন্ম। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন মনোযোগী গৌরনদী সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তার পরিবারের সদস্যরাও উচ্চশিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।রাজনৈতিক জীবনে তাকে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রথমবার হামলার মুখোমুখি হন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মামলা ও নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে বর্তমানে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।সবচেয়ে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ঘটে ২০২৩ সালে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। ওই সময় তিনি শারীরিকভাবে আহত হন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এমনকি দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় তিনি নিজের মা-বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি যা তার জীবনের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।তার রাজনৈতিক প্রেরণার মূল উৎস ছিলেন তার বাবা মো. আলমগীর খান, যিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। সেই আদর্শ থেকেই রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার প্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান সেন্টু খান। তার ভাষায়, “আমার কোনো পিছুটান নেই, মানুষের জন্য কাজ করাই আমার লক্ষ্য।”দীর্ঘ সংগ্রামমুখর পথচলার মধ্য দিয়ে স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় স্থানীয়দের একটি বড় অংশ। অনেকেই তাকে নলচিড়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক কাজেও সক্রিয় রয়েছেন সেন্টু খান। অসহায় ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এলাকাবাসীর মতে, তার নেতৃত্বগুণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ত্যাগের মানসিকতা ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় পরিসরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তুলবে।
সব মিলিয়ে, সাইয়েদুল আলম সেন্টু খান শুধু একজন রাজনীতিক নন তিনি সংগ্রাম, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, যার পথচলা নতুন প্রজন্মের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস।