ডেস্ক রিপোর্ট, টুডে বাংলা নিউজ ২৪ ||
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা এলাকায় সাংবাদিক ফরাজী আবু তাহেরের বসতবাড়িতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় অবশেষে দুই মাস পর দুই চোরকে গ্রেপ্তার করেছে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ। গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী গ্রামের বাসিন্দা আহম্মেদ গাজী ও সায়েম খান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় চুরি, মাদক কারবার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি চৌকস দল গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা এবং চুরি হওয়া কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ গভীর রাতে সাংবাদিক ফরাজী আবু তাহের তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাতের কোনো একসময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র ঘরের সামনে ও পেছনে সিধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা নগদ অর্থ, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে ঘরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে খোঁজাখুঁজি করে দেখা যায়, নগদ ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, একটি গুগল পিক্সেল-৬ স্মার্টফোন, একটি রিয়েলমি নোট ৬০এক্স মোবাইল সেট এবং আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।ঘটনার পরপরই আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় চোর শনাক্তের চেষ্টা চালানো হলেও কোনো সাফল্য মেলেনি। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফরাজী আবু তাহের রাঙ্গাবালী থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারি ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে চোরচক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এ চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, একজন গণমাধ্যমকর্মীর বাড়িতে সংঘবদ্ধভাবে চুরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। তারা দ্রুত চোরচক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার, চুরি হওয়া সম্পদের পূর্ণ উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে পৃথক মামলার প্রস্তুতিও চলছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।