মোঃ সুজন শরিফ, বরিশাল গৌরনদী প্রতিনিধি ||
নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা-তে “ফ্যামিলি কার্ড” কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় গৌরনদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন গৌরনদী উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হালিম।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ক্রয়ের সুযোগ পাবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের কোনো মানুষ যেন খাদ্য সংকটে না থাকে এবং প্রতিটি পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা।অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। গৌরনদী উপজেলাকে এ প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়েছেন।বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ খলিল আহমেদ, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনসার উদ্দিন, গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম, বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান এবং জেলা বিএনপির সদস্য ও গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির।স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক শাহ মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীরা স্বল্পমূল্যে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেহেদী হাসান, গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তারিক হাসান রাসেল, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শরীফ শফিকুর রহমান স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খোকন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি জাকির হোসেন রাজা, গণঅধিকার পরিষদের গৌরনদী উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুবকর গাজী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার শেখ, ভেটেনারি সার্জন মোঃ মাহমুদুল হাসান ফরিদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভিন, সমবায় কর্মকর্তা আফসানা শাখি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফুয়াদ হোসেন এ্যানি, উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সদস্য সচিব তানিয়া মাহমুদ, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাচ্চু, সদস্য সচিব মোঃ গোলাম মাহতাব, যুবদল নেতা মোঃ রিয়াজ ভূইয়া ও মোঃ সিরাজ সরদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশব্যাপী দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১টি উপজেলার মোট ৯ হাজার ৭০৭ জন উপকারভোগী এ সেবার আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৬১৩ জনকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেয়ে উপকৃত হবে। একইসঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দারিদ্র্য হ্রাসে এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।