বরিশালের গৌরনদীর সাংবাদিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ও গণমাধ্যমকর্মী সুমন তালুকদারের পুত্র টি. এম. তাওহীদ ইসলাম দেশের অন্যতম বৃহৎ তরুণ নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘জিরো অলিম্পিয়াড সিজন-২’-এ জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ভিত্তিক এ প্রতিযোগিতার এসডিজি-১৪ (জলজ জীবন ও সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ) ক্যাটাগরিতে তিনি দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন।
সাংবাদিক সুমন তালুকদারের একমাত্র পুত্র তাওহীদ বর্তমানে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল টেকনোলজির ৫ম পর্বের শিক্ষার্থী। তার এই অর্জনে গৌরনদীর সাংবাদিক সমাজ, শিক্ষাঙ্গন এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিযোগিতার শুরুতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯ হাজার ৩৩২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। একাধিক ধাপের কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ৩ হাজার ৪০৭ জন দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ভিডিও উপস্থাপনা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ, যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপনার মান, সমস্যা বিশ্লেষণ এবং সমাধান প্রস্তাবসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশের সেরা ৫১ জন ফাইনালিস্ট নির্বাচিত হন।
ফাইনালিস্টদের মধ্যে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করেন মাত্র দু’জন। তাদের একজন ছিলেন সাংবাদিক সুমন তালুকদারের পুত্র তাওহীদ ইসলাম। গ্র্যান্ড ফিনালে জলজ প্রাণী ও সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক এসডিজি-১৪ ক্যাটাগরিতে অসাধারণ উপস্থাপনা, গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
আয়োজকদের মতে, দেশের তরুণদের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সাংবাদিক পরিবারের সন্তান তাওহীদের এই সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেক্সিকোর ক্লারিওস প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আনা মার্গারিটা গারজা ভিয়ারিয়াল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, জনপ্রিয় উপস্থাপক আরজে কিবরিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
তাওহীদের এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংবাদিক সুমন তালুকদার জানান, ছোটবেলা থেকেই তাওহীদ অত্যন্ত মেধাবী, অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী। তার এই অর্জন শুধু আমাদের পরিবারের নয়, গৌরনদীরও গর্ব। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
তাওহীদের মা স্কুল শিক্ষিকা শাহনাজ বেগম জানান, ছেলের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফল সে আজ পেয়েছে। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
শিক্ষক ও সহপাঠীরা মনে করছেন, সাংবাদিক সুমন তালুকদারের পুত্র তাওহীদের এই অর্জন দেশের কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনবেন।