সারাদেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম ৬০ দিনে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে উপজেলা, জেলা ও মহানগরভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের (নরসিংদী-১) টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০ হাজার ৭৪৪টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৯ হাজার ২৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সালাহ উদ্দিন আহমদ জানান, মাদকের বিস্তার রোধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন কৌশল প্রণয়ন করেছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপজেলা ও জেলাভিত্তিক অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা এবং মহানগর এলাকার থানাভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রণয়ন এবং তা হালনাগাদ করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে এসব তালিকা প্রস্তুত ও পর্যালোচনা করে থাকে, যাতে অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গত ১ মে থেকে সারা দেশে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য মাদকের বিস্তার রোধ করে সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা।
তিনি বলেন, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক নির্মূলে আরও কার্যকর ফলাফল অর্জনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।