বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খান্জাপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং তাঁর ছোট ভাই, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল হাওলাদার নিজ গ্রামে আগমন করায় তাঁদের সম্মানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করেছে খান্জাপুর ইউনিয়নবাসী।
এলাকার গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের আস্থাভাজন, ইতালি প্রবাসী সমাজসেবক গোলাম কিবরিয়া তালুকদার-এর সার্বিক উদ্যোগে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ছবদের আলী তালুকদারের স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খান্জাপুর ইউনিয়নের এই সুশিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবসেবা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এলাকার সুনাম বৃদ্ধি করে আসছে। পরিবারটির একাধিক সদস্য বিসিএস ক্যাডার হিসেবে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে পরিবারটি শুধু খান্জাপুর ইউনিয়নের নয়, বরং গৌরনদী, আগৈলঝাড়া এবং বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের জন্যও গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
নিজ বাড়িতে আগমন উপলক্ষে ‘ছবদের আলী তালুকদারের স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া তালুকদারের নেতৃত্বে খান্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদারের বাসভবনে উপস্থিত হন। এ সময় ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। একইভাবে তাঁর ছোট ভাই গোলাম মোস্তফা কামাল হাওলাদারও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাঁদের পরিবার সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে এবং সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের গুণী ও কৃতী সন্তানদের কারণে খান্জাপুর ইউনিয়নের নাম দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। তাঁদের সাফল্য নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা ও দেশসেবায় উদ্বুদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সর্বস্তরের জনগণ দুই কৃতি ব্যক্তিত্বের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। সংবর্ধিত অতিথিরাও ইউনিয়নবাসীর আন্তরিক ভালোবাসা ও সম্মানে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
খান্জাপুর ইউনিয়নবাসীর এই ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক মিলনমেলায়, যেখানে এলাকার মানুষ তাঁদের প্রিয় কৃতি সন্তানদের সম্মান জানিয়ে গর্ব ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।