গৌরনদী (বরিশাল) থেকে মোঃ মেহেদী হাসান।
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াশুরী গ্রামে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিতে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক ও প্রতিবাদী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় মুরব্বি, যুবসমাজ ও সর্বস্তরের এলাকাবাসীর ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর বানিয়াশুরী এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার শতাধিক যুবক, প্রবীণ ও সচেতন নাগরিক ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, "মাদক ধ্বংস করে জীবন, আর মাদক ব্যবসায়ী ধ্বংস করে সমাজ।" তারা বলেন, বর্তমানে মাদক সমাজের জন্য অন্যতম বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের কারণে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে, পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হচ্ছে এবং সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য মাদকের বিরুদ্ধে এখনই সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় মুরব্বিরা বলেন, বানিয়াশুরী গ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী যুবসমাজ ঘোষণা দেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাদের এই আন্দোলন একদিনের নয়। ভবিষ্যতেও নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মসূচি শেষে দেশ, জাতি এবং সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা এবং এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।