২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। নকআউট পর্বের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকে ঘিরেই পরিকল্পনা সাজিয়েছে ব্রাজিল।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে অবশ্য স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। জনপ্রিয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান অপটা সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার দৌড়ে ফেবারিট ব্রাজিল।
অপটা ২৫ হাজারবার ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল সিমুলেশন চালিয়ে দেখেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ। নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ।
সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও ব্রাজিলের পক্ষেই। অপটার হিসেবে, শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৬৫.৬ শতাংশ, আর নরওয়ের ৩৪.৫ শতাংশ। এই ম্যাচের বিজয়ী কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড বা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে। শেষ ষোলোর ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে সেলেসাও। একমাত্র ব্যতিক্রম ১৯৯০ সালে, যখন আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।
অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাসী নরওয়েও। শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায় তারা। জয়সূচক গোল করেছিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করেছেন। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫।
ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়বেন হালান্ড। ১৯৯৮ সালে ইতালির ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির পর প্রথম ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে এই মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
নরওয়ের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা মার্টিন ওডেগার্ডও দারুণ ছন্দে রয়েছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করা আর্সেনাল তারকা টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ ম্যাচেও অ্যাসিস্ট করতে পারলে গড়বেন নতুন রেকর্ড।
অন্যদিকে, জাপানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে খুব একটা স্বস্তিদায়ক ফুটবল খেলতে পারেনি ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়ার পর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আনচেলত্তির দল। সেই ম্যাচে গোল করেন কাসেমিরো, আর জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করেন ব্রুনো গিমারায়েস। চলতি বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে, যা ১৯৬৬ সালের পর এক আসরে ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
তবে আক্রমণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে ব্রাজিল শিবিরে। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে গড়ে ম্যাচপ্রতি ১৫টি শট নিয়েছে তারা, যা ১৯৯৮ সালের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে, নরওয়ের বড় দুর্বলতা তাদের রক্ষণভাগ। বিশ্বকাপের চার ম্যাচেই তারা যেমন গোল করেছে, তেমনি গোলও হজম করেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনহার গতিময় আক্রমণের বিপক্ষে এই দুর্বলতা বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের।
তবে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান ব্রাজিলের জন্য খুব সুখকর নয়। দুই দলের আগের চার দেখায় দুই জয় ও দুই ড্রয়ে অপরাজিত নরওয়ে। সর্বশেষ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ভাইকিংরা। এছাড়া ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে বিদায় নিয়েছে সেলেসাও।