বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদক ও চুরি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় থানার ডিউটি অফিসারসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে থানার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক ও চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার স্বজন ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে রিয়াজ ফকিরের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও তাদের সমর্থকদের একটি দল আগৈলঝাড়া থানায় এসে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা থানায় অতর্কিত হামলা চালায় এবং থানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।
হামলার সময় থানার ডিউটি অফিসার হালিমের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা থানার বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডিউটি অফিসারসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে থানার নিরাপত্তা, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রথমে হামলাকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা আরও বেপরোয়া আচরণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং থানার নিরাপত্তা জোরদার করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর আগৈলঝাড়ায় থানায় এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা এই প্রথম। এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদ রানা বলেন, মাদক ও চুরি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করার জের ধরে একদল লোক থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে থানার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।