পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরিশালের গৌরনদীতে ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ এবং ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে তিনি সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় গৌরনদী সিসিভিবি (CCVB) প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইউএনও মো. ইব্রাহীম নিজ হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির জন্য ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের অসংখ্য চারা উপহার দেন।
এ সময় তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে যে বিরূপ প্রভাব দেখা দিচ্ছে, তা মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি গাছকে সন্তানস্নেহে লালন-পালন করতে হবে। আজকের একটি গাছই আগামী দিনের বিশুদ্ধ অক্সিজেন, নির্মল পরিবেশ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করেন এবং সেটির যথাযথ পরিচর্যা করেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবেশের ওপর ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষপ্রেম ও পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির ক্ষয়রোধ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজন ইউএনওর এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তারা বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি সবুজায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করবে।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলমান বৃক্ষরোপণ অভিযান ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে গৌরনদী আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব উপজেলায় পরিণত হবে।