শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষক হচ্ছেন সেই মেরুদণ্ডের কারিগর, এই সত্যকে ধারণ করে বরিশালের গৌরনদীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং প্রয়াত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গৌরনদী পৌরসভার সুন্দরদী গাউছিয়া আবেদীয়া সুন্নীয়া আলিম মাদরাসার আয়োজনে দিনব্যাপী এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব এস এম আব্দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল (উত্তর) জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া শিক্ষকদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, শিক্ষকরাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন। তাদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তিনি শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমাজ গঠনে তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে সমাজের জন্য উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই শিক্ষকদের সম্মান করা মানে শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্মান করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি মো. শাহ আলম কবিরাজ, বার্থী ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য এসএম জানে আলম, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর হাকিম সিকদার, অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী আব্দুস ছালামসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, শিক্ষকদের সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শ্রম ও ত্যাগের আলোতেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে উঠেছে। একজন শিক্ষকের অবদান তাঁর কর্মজীবনের গণ্ডি পেরিয়ে দীর্ঘদিন সমাজে ও মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে।
বক্তারা আরও বলেন, অবসর গ্রহণের পরও একজন শিক্ষকের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য মূল্যবান সম্পদ। একইভাবে প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণ করা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ উদ্যোগ। এ ধরনের সম্মাননা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শিক্ষক ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও বাড়াবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রয়াত শিক্ষক মরহুম মাওলানা মিজানুর রহমান, মরহুম মাওলানা হোসাইন মো. ফারুক, আব্দুল আলী চাপরাশ ও নুর মোহাম্মদ শরীফের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. খালেক হাওলাদার ও আব্দুস ছালামকেও ক্রেস্ট ও পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করা এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের সম্মান ও তাঁদের অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।