আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে বরিশালের গৌরনদীতে প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার শ্রী শ্রী তাঁরা মায়ের মন্দির প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে পূজার দিনগুলোতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। তাই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার পাশাপাশি উৎসবের আনন্দ যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সচল রাখা এবং অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের প্রস্তুতি যথাসময়ে সম্পন্ন করা, পূজামণ্ডপের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রেখে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় থাকলে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দঘন উৎসব আয়োজন করা সম্ভব। কোনো ধরনের গুজব, উসকানি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিরা আসন্ন দুর্গোৎসব সফল, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁরা পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং উৎসব চলাকালে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরনদীতে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হবে। একই সঙ্গে এ উৎসবের মধ্য দিয়ে উপজেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।