বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পরিত্যক্ত স্থানে পড়ে থাকা ৯টি ককটেল বোমা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার টরকী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নীলখোলা চেরার হাটখোলা এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে গৌরনদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরদী এলাকায় টরকী পানভান্ডার ও কবির ঘরামীর বাড়ির মধ্যবর্তী একটি পরিত্যক্ত স্থানে হাটের কয়েকজন শ্রমিক বোমার মতো দেখতে বেশ কয়েকটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তাঁরা গৌরনদী মডেল থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে বস্তুগুলো পড়ে থাকা স্থানটি রশি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
পরবর্তী সময়ে সকাল ১১টার দিকে টরকী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন চেরার হাটখোলার পূর্ব পাশে অবস্থিত তিনতলা একটি ভবনের পশ্চিম পাশ থেকে ৯টি ককটেল বোমা উদ্ধার করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার ও কোম্পানি অধিনায়ক, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্পের মোঃ আশরাফুল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলাউল এবং গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তারিক হাসান রাসেলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত ৯টি ককটেল বোমা পরবর্তী সময়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উত্তর পাশে নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় নিষ্ক্রিয় করা হয়।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তারিক হাসান রাসেল জানান, বস্তুগুলো পরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয় করার জন্য বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছিল।
তবে এসব ককটেল বোমা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রেখেছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জনবহুল টরকী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।