গৌরনদী প্রতিনিধি মোঃ শরীফ সুজন।
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার আসন্ন নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সম্ভাব্য পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরবাসীর মধ্যে ত্যাগী, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বরিশাল উত্তর জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংগ্রামী সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী আশির দশকের ছাত্ররাজনীতি থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ১৯৮০ সালে গৌরনদী কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়ে তিনি ছাত্রসমাজের আস্থা অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং দলীয় আদর্শে অটল অবস্থান তাকে তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর সময় থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অবস্থান ধরে রাখার মাধ্যমে নিজেকে পরীক্ষিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করা, কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
দলের দুঃসময়ে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও তিনি পিছু হটেননি বলে দাবি তার সহযোদ্ধাদের। ঢাকায় বিস্ফোরক সংক্রান্ত মামলাসহ একাধিক মামলায় কারাবরণ এবং বরিশাল গৌরনদীতে বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ তার রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে আছে। নেতাকর্মীদের মতে, ত্যাগ ও সংগ্রামের এই অধ্যায়ই তাকে স্থানীয়দের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সাধারণ জনগণ ও সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি শুধু দলীয় রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নন বরং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা এবং এলাকার উন্নয়ন ভাবনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে পৌরবাসীর একটি বড় অংশ তাকে সম্ভাব্য মেয়র হিসেবে দেখতে আগ্রহী। তাদের বিশ্বাস, দূরদর্শী পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে গৌরনদী পৌরসভাকে আধুনিক ও উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া সম্ভব।
বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর শাসনামলে রাজনীতিতে তার ছিল সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা। দলের দুঃসময়ে হামলা, মামলা ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও রাজপথ থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংগঠনের কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন বলে দাবি সমর্থকদের।
স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন গৌরনদীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শক্ত, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। সে বিবেচনায় তাকে একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন তারা।
পৌরবাসীর কণ্ঠে এখন উচ্চারিত হচ্ছে গৌরনদীর উন্নয়ন চাই, স্বচ্ছ নেতৃত্ব চাই। সমর্থকদের আশা, গণসমর্থনের শক্তিতে তিনি ভবিষ্যতে গৌরনদী পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করে নাগরিক সেবাকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও জনগণমুখী করে তুলবেন।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা কিংবা দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবুও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে জোর আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে গৌরনদীর পৌর নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রত্যাশা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
বিষয় : গৌরনদী বরিশাল মিজানুর রহমান খান মুকুল
.png)
রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গৌরনদী প্রতিনিধি মোঃ শরীফ সুজন।
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার আসন্ন নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সম্ভাব্য পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরবাসীর মধ্যে ত্যাগী, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বরিশাল উত্তর জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংগ্রামী সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী আশির দশকের ছাত্ররাজনীতি থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ১৯৮০ সালে গৌরনদী কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়ে তিনি ছাত্রসমাজের আস্থা অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং দলীয় আদর্শে অটল অবস্থান তাকে তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর সময় থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অবস্থান ধরে রাখার মাধ্যমে নিজেকে পরীক্ষিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করা, কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
দলের দুঃসময়ে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও তিনি পিছু হটেননি বলে দাবি তার সহযোদ্ধাদের। ঢাকায় বিস্ফোরক সংক্রান্ত মামলাসহ একাধিক মামলায় কারাবরণ এবং বরিশাল গৌরনদীতে বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ তার রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে আছে। নেতাকর্মীদের মতে, ত্যাগ ও সংগ্রামের এই অধ্যায়ই তাকে স্থানীয়দের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সাধারণ জনগণ ও সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি শুধু দলীয় রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নন বরং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা এবং এলাকার উন্নয়ন ভাবনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে পৌরবাসীর একটি বড় অংশ তাকে সম্ভাব্য মেয়র হিসেবে দেখতে আগ্রহী। তাদের বিশ্বাস, দূরদর্শী পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে গৌরনদী পৌরসভাকে আধুনিক ও উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া সম্ভব।
বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর শাসনামলে রাজনীতিতে তার ছিল সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা। দলের দুঃসময়ে হামলা, মামলা ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও রাজপথ থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংগঠনের কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন বলে দাবি সমর্থকদের।
স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন গৌরনদীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শক্ত, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। সে বিবেচনায় তাকে একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন তারা।
পৌরবাসীর কণ্ঠে এখন উচ্চারিত হচ্ছে গৌরনদীর উন্নয়ন চাই, স্বচ্ছ নেতৃত্ব চাই। সমর্থকদের আশা, গণসমর্থনের শক্তিতে তিনি ভবিষ্যতে গৌরনদী পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করে নাগরিক সেবাকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও জনগণমুখী করে তুলবেন।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা কিংবা দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবুও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে জোর আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে গৌরনদীর পৌর নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রত্যাশা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন