পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী—পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেন (৩০) এবং সুজন—কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে সাভার ও টঙ্গী এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার মেজর মোহাম্মদ আবরার ফয়সাল সাদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।র্যাব জানায়, গ্রেফতার দুই আসামি কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরাসরি জড়িত। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করবেন র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম।গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ দোকানে ঢুকে যুবদল নেতা কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে তিনজন হেলমেট ও মুখোশ পরা সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কিবরিয়া দোকানে ঢোকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। দুজন দুর্বৃত্ত তাকে খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীদের একজন কিবরিয়া পড়ে যাওয়ার পরও আরও তিনটি গুলি ছোড়ে।এ সময় দোকানে থাকা নয়জন লোক আতঙ্কে বেরিয়ে যান। কিবরিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠতে চাইলে চালক দ্রুত গাড়ি না চালানোয় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আহত চালক আরিফ হোসেন (১৮) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন জনি ভূঁইয়া (২৫) নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার নিহত কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জনিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেন, সোহাগ ওরফে কালু (২৭), মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম (২৮) এবং রোকন (৩০)। এছাড়া অজ্ঞাত সাত-আটজন সন্ত্রাসীকেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।পল্লবী থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য মোটিভ, পূর্বশত্রুতা ও সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।