গৌরনদীতে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিতর্ক একই পরিবারের মধ্যে বিরোধ, এলাকায় চাঞ্চল্য
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রামের নতুন বাজার এলাকায় ওয়ারিশ সনদকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।জানা গেছে, নতুন বাজার এলাকার মৃত ক্যাপটেন আলী হোসেন সরদার ও তার স্ত্রী মাসুদা হোসেনের দুই ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও মোঃ আনোয়ার হোসেন। তাদের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও ওয়ারিশ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।পারিবারিক সূত্রে অভিযোগ, ছোট ছেলে প্রবাসী আনোয়ার হোসেন ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দেলোয়ার হোসেনকে ‘পালক সন্তান’ হিসেবে প্রচার করছেন। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। এ বিষয় মোবাইল ফোনে প্রবাসী আনোয়ার হোসেন বলেন দেলোয়ার আমার বাবার পালক ছেলে।পরিবারের দাবি, মৃত আলী হোসেন সরদারের সরকারি সকল কাগজপত্র রেশন কার্ড, পেনশন নথিসহ বিভিন্ন দলিলে দুই ভাইয়ের নাম বৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হঠাৎ করে এ ধরনের অভিযোগ তোলায় দেলোয়ার হোসেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।এদিকে, নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশনার কারণে তিনি ওই সনদ প্রদান করেননি।অন্যদিকে, দেলোয়ার হোসেনের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্বেও একাধিকবার ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে দেলোয়ার হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন কোনো ধরনের আপত্তি ওঠেনি।মৃত আলী হোসেন সরদারের দ্বিতীয় স্ত্রী আরজু বেগম বলেন, আমরা আগেও ওয়ারিশ সনদ নিয়েছি, সেখানে দেলোয়ারের নাম ছিল। এখন হঠাৎ করে এমন অভিযোগ কেন উঠছে তা বোধগম্য নয়। তিনি দাবি করেন, পরিবারের বাইরে থেকে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ বিরোধ সৃষ্টি করছে।পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও জানান, তাদের পরিবারে কোনো পালক সন্তানের বিষয় নেই। তারা জোর দিয়ে বলেন, দেলোয়ার ও আনোয়ার উভয়েই আলী হোসেন সরদারের জৈবিক সন্তান এবং অতীতে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী, যাতে বিরোধ নিরসন করে পারিবারিক শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়।