ঢাকা   শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা   শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
Today বাংলা নিউজ

আইন-কানুন

গৌরনদীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার গলদ বৃষ্টি হলেই পানিতে ডুবে টরকী বন্দর

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: মোঃ ইয়াদুল ইসলাম।বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই জলাবদ্ধতার আতঙ্কে দিন গুনছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পৌর এলাকার ১নং ও ২ নং ওয়ার্ডের টরকী বন্দরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দরের হাট-বাজার, বাসা-বাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে জনজীবন হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত, আর নিত্যদিনের কার্যক্রমে নেমে আসে চরম ভোগান্তি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টরকী বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানে প্রায় ১৫টি ব্যাংক, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একাধিক মাদ্রাসা এবং মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা এই বন্দরে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।অভিযোগ রয়েছে, বন্দরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যত অকার্যকর। অধিকাংশ ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হয়ে রাস্তাঘাট ও আশপাশের বাড়িঘরে জমে থাকে। এতে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।টরকী বন্দর ছাগলহাট এলাকার বাসিন্দা মো. ফাহাদ মিয়া বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। ড্রেনগুলো ছোট এবং অনেক জায়গায় আবর্জনায় ভরা। ফলে পানি দ্রুত নামতে পারে না। এছাড়া রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে তা ঢেকে যায়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জলাবদ্ধতার মূল কারণই হলো দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা।একই অভিযোগ করেন বন্দরের চাল ব্যবসায়ী মো. কাশেম ঘরামী। তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। চাল লোড-আনলোড করতে সমস্যা হয়, ক্রেতারা বাজারে আসতে চায় না। ফলে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়। সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকলে এই বন্দর ব্যবসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।টরকী বন্দর বণিক সমিতির সভাপতি শরীফ শাহাবুব হাসান জানান, এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা অনেকবার শোনা গেলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই কাজ শেষ করা গেলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেত। বর্তমানে অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে, বৃষ্টি হলে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে।এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বারবার তাগিদ দিচ্ছি। যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই টরকী বন্দরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও রাস্তাঘাট মেরামতের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে এ অঞ্চলের জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।

গৌরনদীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার গলদ বৃষ্টি হলেই পানিতে ডুবে টরকী বন্দর