জামায়াত-এনসিপিসহ ৭৮ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
চট্টগ্রাম-এ ১৬ আসনে ৭৮ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত বিএনপির কেউ হারাননি জামানত, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীও তালিকায়ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১১৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যা মোট প্রার্থীর ৬৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। জামানত হারানোদের তালিকায় বিভিন্ন দলের প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীও রয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ৭৮ প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হন।রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া বেসরকারি ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৬টি আসনের মধ্যে কোনো আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জামানত হারাননি। তবে একটি করে আসনে জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বিএসপি, লেবার পার্টি, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, জাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), ইনসানিয়াত বিপ্লব, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাসদ, এনডিএম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের সব প্রার্থী এবং একজন ছাড়া সব স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।আসনভিত্তিক চিত্রচট্টগ্রাম-১: ৭ প্রার্থীর মধ্যে জাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): ৮ প্রার্থীর মধ্যে বিএসপি, ইসলামী আন্দোলন, জনতার দল, গণঅধিকার পরিষদ ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত হারান।চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): ৪ প্রার্থীর মধ্যে এক স্বতন্ত্র ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জামানত হারান।চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): ৯ প্রার্থীর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীরা জামানত হারান।চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): ইসলামিক ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন, লেবার পার্টি ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত হারান।চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জামানত হারান।চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): ইসলামী আন্দোলন, কমিউনিস্ট পার্টি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জামানত হারান।চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও): ইনসানিয়াত বিপ্লব, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপির প্রার্থী জামানত হারান।চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া): ইসলামী ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, বাসদ (মার্কসবাদী), জেএসডি ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থীরা জামানত হারান।চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর): স্বতন্ত্র, বাসদ (মার্কসবাদী), ইসলামিক ফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি, ইনসানিয়াত বিপ্লব, লেবার পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জামানত হারান।চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, বাসদ (মার্কসবাদী), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাসদ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জামানত হারান।চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, ইনসানিয়াত বিপ্লব, এক স্বতন্ত্র ও জামায়াতের প্রার্থী জামানত হারান।চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): জাতীয় পার্টি, ইনসানিয়াত বিপ্লব, এনডিএম ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা জামানত হারান।চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ): ইনসানিয়াত বিপ্লব, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত হারান।চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া): ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণঅধিকার পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জামানত হারান।চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ট্রেজারি চালান বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। নির্ধারিত ভোটসীমা অর্জনে ব্যর্থ হলে সেই অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়।