রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ন্যূনতম ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।বুধবার (২৫ মার্চ) পাঠানো এই নোটিশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী, সেতু বিভাগের সচিব এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট নেওয়াজুল আসিফ সাদ, ব্যারিস্টার রাফি জি রহমান ও অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন নাসের যৌথভাবে নোটিশটি পাঠান।নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা মনে হলেও এর পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা, পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না তা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ফেরিতে ওঠার সময় কুমারখালী–রাজবাড়ী রুটে চলাচলকারী ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।লিগ্যাল নোটিশে আহতদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষম আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।এছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।লিগ্যাল নোটিশ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট নেওয়াজুল আসিফ সাদ বলেন, জনস্বার্থে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। সময়স্বল্পতার কারণে ডাকযোগে পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে ই-মেইলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী কর্মদিবসে ডাকযোগেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।