গাবতলীতে বৃদ্ধকে হত্যা, ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় এক বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের নিশিন্দারা (হিন্দু পাড়া) গ্রামে একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।নিহত ব্যক্তি মোঃ আব্দুল লতিফ (৬৫)। তিনি মৃত মোবারক আলী আকন্দের ছেলে এবং নিশিন্দারা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন সাধারণ কৃষক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে খাবার শেষে আব্দুল লতিফ বাড়ির পাশেই থাকা স্যালো মেশিন ঘরে ঘুমাতে যান। তবে রোববার সকালে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গ্রামের বিয়ের গাছের উত্তর পাশে স্যালো মেশিন ঘরের সংলগ্ন পূর্ব পাশের একটি ধানক্ষেতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।পরে স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি গাবতলী থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সারিয়াকান্দি-গাবতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হুমায়ুন কবির এবং গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাকিব হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে।এদিকে, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসীর মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।