ঢাকা   রোববার, ১৭ মে ২০২৬
ঢাকা   রোববার, ১৭ মে ২০২৬
Today বাংলা নিউজ

সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে ৮ কোটি টাকার সেতু



সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে ৮ কোটি টাকার সেতু
ছবিঃ সংগৃহীত

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সেতুর এক পাশে ফসলি জমি এবং অন্য পাশে বসতঘর থাকলেও কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে চলাচল করছেন। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর ও মোমারিজপুর গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছোট ফেনী নদীর ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। টেন্ডারের মাধ্যমে একটি স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে এবং গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়।

তবে সেতুর দুই পাশে পর্যাপ্ত জায়গা ও সংযোগ সড়ক না থাকায় এখন পর্যন্ত এটি ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১০ ফুট উঁচু সেতুটির সঙ্গে সড়ক সংযোগ স্থাপন করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় কৃষক কবির আহমদ বলেন, সেতু নির্মাণের খবরে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর পার হলেও দুই পাশে সড়ক নির্মাণ হয়নি। এখন কাঠের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় দোকানি নুর নবী বলেন, উন্নয়নের নামে আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। নদীভাঙনে আগেই অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি সেতুর সঙ্গে সড়ক থাকত, তাহলে অন্তত মানুষ সহজে চলাচল করতে পারত। এখন সেতু থেকেও কোনো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।

মাতুভূঞা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হারিছ আহমদ পেয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কীভাবে এত উঁচু সেতু সংযোগ সড়ক ছাড়া অনুমোদন পেল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বর্ষার আগেই সড়ক নির্মাণ না হলে এলাকাবাসীকে আরও ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ জানান, শুরুতে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত বাকি কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক ছাড়া সেতুটি জনগণের কোনো কাজে আসবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বিকল্প কোনো উপায়ে কাজটি সম্পন্ন করা যায় কি না, তা নিয়ে চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

Today বাংলা নিউজ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


সড়ক ছাড়াই দাঁড়িয়ে ৮ কোটি টাকার সেতু

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সেতুর এক পাশে ফসলি জমি এবং অন্য পাশে বসতঘর থাকলেও কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে চলাচল করছেন। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর ও মোমারিজপুর গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছোট ফেনী নদীর ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। টেন্ডারের মাধ্যমে একটি স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে এবং গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়।

তবে সেতুর দুই পাশে পর্যাপ্ত জায়গা ও সংযোগ সড়ক না থাকায় এখন পর্যন্ত এটি ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১০ ফুট উঁচু সেতুটির সঙ্গে সড়ক সংযোগ স্থাপন করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় কৃষক কবির আহমদ বলেন, সেতু নির্মাণের খবরে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর পার হলেও দুই পাশে সড়ক নির্মাণ হয়নি। এখন কাঠের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় দোকানি নুর নবী বলেন, উন্নয়নের নামে আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। নদীভাঙনে আগেই অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি সেতুর সঙ্গে সড়ক থাকত, তাহলে অন্তত মানুষ সহজে চলাচল করতে পারত। এখন সেতু থেকেও কোনো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।

মাতুভূঞা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হারিছ আহমদ পেয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কীভাবে এত উঁচু সেতু সংযোগ সড়ক ছাড়া অনুমোদন পেল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বর্ষার আগেই সড়ক নির্মাণ না হলে এলাকাবাসীকে আরও ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ জানান, শুরুতে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত বাকি কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক ছাড়া সেতুটি জনগণের কোনো কাজে আসবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বিকল্প কোনো উপায়ে কাজটি সম্পন্ন করা যায় কি না, তা নিয়ে চেষ্টা চলছে।


Today বাংলা নিউজ

প্রধান উপদেষ্টাঃ কাজী বায়েজিদ রনি
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ Today বাংলা নিউজ ২৪
Address: Torki, Bondor, Gournadi, Barishal
Email: todaybanglanews8@gmail.com
Mobile: +8801718854964

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত Today বাংলা নিউজ ২৪