পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গভীর রাতে একটি আবাসিক হোটেলের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হোটেল মালিক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।ভুক্তভোগী হোটেল মালিক হলেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ। তিনি অভিযোগ করেন, তার নিজ ভাগিনা কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহকারী বাইতুলমাল সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজির নেতৃত্বে একটি দল গভীর রাতে তার মালিকানাধীন কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন জমি দখলের চেষ্টা চালায়।বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ১৫-২০ জনের একটি দল হোটেল সংলগ্ন জমির পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় তারা হোটেলের সীমানা প্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাধা দিতে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে এমএ মোতালেব শরীফ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে আইনি সহায়তা চান। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এ ঘটনায় তিনি মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ ঘটনার পর কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন জমিটি তার পারিবারিক সম্পত্তি। তার বাবা মৃত্যুবরণ করার পর ৫৬/১৪ নম্বর বণ্টন মোকদ্দমার মাধ্যমে দুই বোনের জমি দুই খতিয়ানের দক্ষিণ অংশে ভাগ করে আদালত থেকে ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালে জমির দখল বুঝে পান।তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে আত্মীয় ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সাহেদা, জাহানারা ও শাহীনুর ৩৮৫/২৩ নম্বর ডিক্রি রদের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০২৪ সালে আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও গত ৩ ফেব্রুয়ারি তারা তার কাছে এসে হোটেলের পেছনের জমিতে ঘর নির্মাণ করে দখল নেওয়ার হুমকি দেয়। এর প্রেক্ষিতেই তিনি প্রথমে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, তার বাবার মৃত্যুর পর বোন সাহেদা বেগম তার প্রাপ্য সাড়ে ৩৪ শতাংশ জমির মধ্যে ২২ শতাংশ খান প্যালেসের মালিক রহিম খানের কাছে বিক্রি করেন। অবশিষ্ট সাড়ে ১২ শতাংশ জমির বিপরীতে ২০০২ সালে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও আজ পর্যন্ত জমির দলিল বুঝিয়ে দেননি। এখন দলিল না দিয়েই জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতা মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি কোনো জমি দখল করতে যাইনি। এখানে আমার মা ও খালারা তাদের ন্যায্য অংশ পাওয়ার দাবি করছেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের জায়গা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছি। মামা আমাদের বুঝিয়ে দেননি। তাই নিজেদের জায়গা বুঝে নেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। এখানে কোনো অন্যায় করা হয়নি।এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। বিষয়টি জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয়। তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।