চার দশকের রাজনীতিতে কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে জনপ্রিয় বদিউজ্জামান মিন্টু
৪১ বছরের রাজনৈতিক পথচলা, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে রাজপথে বদিউজ্জামান মিন্টু গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দেখতে চান নেতাকর্মীরাবরিশাল জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গৌরনদী উপজেলায় দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন বিএনপির নেতা বদিউজ্জামান মিন্টু। কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত এই রাজপথের সম্মুখযোদ্ধা টানা ৪০ বছর পেরিয়ে ৪১ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য হামলা-মামলা, কারাবরণ এবং নির্যাতনের শিকার হয়েও বদিউজ্জামান মিন্টুকে কখনোই রাজপথ থেকে সরানো যায়নি। বরং প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন সামনের সারির নেতা।বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বিগত পতিত সরকারের ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বদিউজ্জামান মিন্টুর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় তাকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, হত্যার উদ্দেশ্যে সাতবার হামলার শিকারও হয়েছেন তিনি। একাধিকবার গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তৎকালীন সন্ত্রাসীরা তাকে হেলমেট পরিয়ে অমানুষিক নির্যাতনও চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব নির্যাতন ও বাধা তার রাজনৈতিক পথচলাকে থামাতে পারেনি।দলীয় নেতাকর্মীরা আরও বলেন, কঠিন সময়েও বদিউজ্জামান মিন্টু রাজপথ ছাড়েননি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণেই তিনি কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।এই জনপ্রিয়তার কারণেই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হিসেবে বদিউজ্জামান মিন্টুকে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ।জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বদিউজ্জামান মিন্টু। সে সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের কারণে ১৯৮৭ সালে তিনি চাঁদশী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পান।পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সরকারি গৌরনদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৯২ সালে কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং একই সময়ে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি দ্রুতই গৌরনদীর ছাত্রসমাজের কাছে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।১৯৯৫ সালে গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০০ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। দলের প্রতি আনুগত্য ও নীতির প্রশ্নে আপোষহীন মনোভাবের কারণে ২০০৩ সালে যুবদলের গৌরনদী উপজেলা শাখার আহবায়ক এবং ২০০৫ সালে উপজেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।এরপর ধাপে ধাপে মূল দল বিএনপির রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন বদিউজ্জামান মিন্টু। ২০০৯ সালে তিনি গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এবং একই বছর সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই বছর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবেও অংশ নেন তিনি।পরবর্তীতে ২০১০ সালে বরিশাল জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক, ২০১৫ সালে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, ২০২২ সালে বরিশাল জেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য এবং ২০২৩ সাল থেকে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রজীবনের রাজনীতি থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে নিজের মেধা, দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে বদিউজ্জামান মিন্টু উপজেলা ও জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্কই তাকে কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।সার্বিক বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে রাজপথে আছি।তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। জনগণ এবং কর্মীরাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। যতদিন বেঁচে থাকব, কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বিএনপির পতাকাকে সমুন্নত রাখার জন্য কাজ করে যাব।বদিউজ্জামান মিন্টু আরও বলেন দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ চাইছেন আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হিসেবে আমি প্রার্থী হই। মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে আমার রাজনৈতিক অভিভাবক স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনসহ দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে জনগণের এই দাবি পৌঁছে দেব।তিনি বলেন আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস এবং জনগণের ভালোবাসার বিষয়টি বিবেচনা করে দলের নীতিনির্ধারকরা নিশ্চয়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমি শতভাগ বিশ্বাস করি।