গৌরনদীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের
তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। তিনি বলেছেন, মাদক নির্মূলে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।সোমবার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে মাদক। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাদকের সঙ্গে যদি কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা থাকে, তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। এ সময় ঈদযাত্রায় যাতে যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গৌরনদী মডেল থানা ও হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তথ্যমন্ত্রী।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন এবং জেলা পুলিশ সুপার এ.জেড.এম মোস্তাফিজুর রহমান।সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনসার উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফখরুল ইসলাম মৃধা, গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান এবং হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ।এছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির, সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিয়া, খোন্দকার মনিরুজ্জামান, সাংবাদিক কাজী আল আমিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা এবং ঈদ উপলক্ষে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।