ঢাকা   সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা   সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Today বাংলা নিউজ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রবীণ নেতা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সরকারের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।দলীয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ নেবেন। একই দিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?দলীয় সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনের পর তিনি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করা এই নেতা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের দীর্ঘমেয়াদি মহাসচিব হিসেবে পরিচিতি পান।তবে রাষ্ট্রপতির পদে একাধিক নাম আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। যদিও তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি, তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং একসময় কুয়েতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে আলোচনায় রেখেছে।এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নামও ঘুরে ফিরে আসছে। অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছিল। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী-এর নামও আলোচনায় এসেছে।নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শপথ ও সরকার গঠন সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া সংবিধানের বাইরে হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই গেজেট প্রকাশের তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ আয়োজনের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নজর আগামী মঙ্গলবারের দিকে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে কে বসছেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল