ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Today বাংলা নিউজ

সারজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে বড় গড়মিল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ লক্ষ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনে হলফনামা দাখিল করেছেন। তবে হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে প্রদত্ত তার আয় ও সম্পদের তথ্যে একাধিক অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে বছরে ৯ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য দাখিল করা আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ হলফনামায় ঘোষিত আয়ের তুলনায় আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত আয় প্রায় তিনগুণেরও বেশি। এই বড় ব্যবধান তার প্রকৃত আয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।আয়ের পাশাপাশি সম্পদের ক্ষেত্রেও তথ্যের গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে। আয়কর রিটার্নে সারজিস আলমের মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অথচ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখানো হয়েছে।হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও সমপরিমাণ আসবাবপত্রের মালিক তিনি। হলফনামায় কোনো স্বর্ণালংকারের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।স্থাবর সম্পদের হিসাবে তিনি দান হিসেবে পাওয়া সাড়ে ১৬ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন। ওই জমির অর্জনকালীন মূল্য সাড়ে ৭ হাজার টাকা হলেও বর্তমানে এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হলফনামার তথ্যমতে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১০ লাখ টাকা।হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে আয় ও সম্পদের এই বড় পার্থক্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের আর্থিক তথ্য স্বচ্ছ ও সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সারজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে বড় গড়মিল