কুমিল্লা-৬ আসনে চরম উত্তেজনা: তৃণমূলের দাবি—‘ইয়াছিন স্বতন্ত্র হলে বিজয় অনিবার্য’ চাপে বিএনপি।
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও ক্যান্টনমেন্ট) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির তিনবারের সাবেক এমপি ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ মনিরুল হক চৌধুরী দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও, এবার তাঁকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলেছে তৃণমূলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি—হাজ্বী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে মনিরুলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠবে।
ইয়াছিনের জনপ্রিয়তায় তৃণমূলের আস্থা:
হাজ্বী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও জননন্দিত নেতার প্রতীক। ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৯ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
দলীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
তৃণমূলের অভিযোগ—যে নেতা বছরের পর বছর এলাকায় ছিলেন না, তিনি কীভাবে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ইয়াছিনকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন পেলেন? এই ক্ষোভই পুরো এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।
মাঠে সংঘাতমুখর পরিস্থিতি:
গত কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মনিরুল হক চৌধুরীর গণসংযোগে বাধা, তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিভিন্ন মহল্লায় ককটেল বিস্ফোরণ—এসব ঘটনায় ভোটের মাঠে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভই এসব ঘটনার মূল উৎস।
মনিরুলের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তিনবার এমপি থাকার যোগ্যতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের কারণে মনিরুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
কায়সার নির্বাচনে না নামায় দৃষ্টি ইয়াছিনের দিকে:
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তৃণমূলের সব আশা–নির্ভরতা এখন ইয়াছিনের দিকে—তিনি স্বতন্ত্র হবেন কি না, সেটাই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
জনমতের পাল্লা কোন দিকে?
নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—ইয়াছিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে নির্বাচনের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে।
মোগলটুলীর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন,
“মনিরুল সাহেব তিনবার এমপি ছিলেন, কিন্তু এলাকায় বড় কোনো পরিবর্তন দেখিনি। ইয়াছিন ভাই মাঠের মানুষ, কথা রাখেন। তাঁর মতো নেতাকেই এখন ভোটাররা চাইছেন।”
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নির্বাচন হবে ‘ব্যক্তিপ্রধান’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা-৬ আসনে এবার দলীয় প্রতীক নয়, বরং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, মাঠে উপস্থিতি ও তৃণমূলের সংযোগ—এই তিনটি নিয়ামকই হবে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট, দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
বিএনপির নীরবতা প্রশ্ন বাড়াচ্ছে:
এত আলোচনার পরও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। দল সূত্র বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিষয় : বিএনপি কুমিল্লা বিএনপি-৬ আসন
.png)
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫
কুমিল্লা-৬ আসনে চরম উত্তেজনা: তৃণমূলের দাবি—‘ইয়াছিন স্বতন্ত্র হলে বিজয় অনিবার্য’ চাপে বিএনপি।
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও ক্যান্টনমেন্ট) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির তিনবারের সাবেক এমপি ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ মনিরুল হক চৌধুরী দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও, এবার তাঁকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলেছে তৃণমূলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি—হাজ্বী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে মনিরুলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠবে।
ইয়াছিনের জনপ্রিয়তায় তৃণমূলের আস্থা:
হাজ্বী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও জননন্দিত নেতার প্রতীক। ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৯ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
দলীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
তৃণমূলের অভিযোগ—যে নেতা বছরের পর বছর এলাকায় ছিলেন না, তিনি কীভাবে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ইয়াছিনকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন পেলেন? এই ক্ষোভই পুরো এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।
মাঠে সংঘাতমুখর পরিস্থিতি:
গত কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মনিরুল হক চৌধুরীর গণসংযোগে বাধা, তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিভিন্ন মহল্লায় ককটেল বিস্ফোরণ—এসব ঘটনায় ভোটের মাঠে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভই এসব ঘটনার মূল উৎস।
মনিরুলের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তিনবার এমপি থাকার যোগ্যতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের কারণে মনিরুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
কায়সার নির্বাচনে না নামায় দৃষ্টি ইয়াছিনের দিকে:
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তৃণমূলের সব আশা–নির্ভরতা এখন ইয়াছিনের দিকে—তিনি স্বতন্ত্র হবেন কি না, সেটাই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
জনমতের পাল্লা কোন দিকে?
নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—ইয়াছিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে নির্বাচনের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে।
মোগলটুলীর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন,
“মনিরুল সাহেব তিনবার এমপি ছিলেন, কিন্তু এলাকায় বড় কোনো পরিবর্তন দেখিনি। ইয়াছিন ভাই মাঠের মানুষ, কথা রাখেন। তাঁর মতো নেতাকেই এখন ভোটাররা চাইছেন।”
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নির্বাচন হবে ‘ব্যক্তিপ্রধান’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা-৬ আসনে এবার দলীয় প্রতীক নয়, বরং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, মাঠে উপস্থিতি ও তৃণমূলের সংযোগ—এই তিনটি নিয়ামকই হবে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট, দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
বিএনপির নীরবতা প্রশ্ন বাড়াচ্ছে:
এত আলোচনার পরও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। দল সূত্র বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন