শিক্ষা, নৈতিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠা এক পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা, ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা। ব্যক্তিজীবন, পেশাগত অর্জন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের সমন্বয়ে তার জীবন আজ এক ব্যতিক্রমধর্মী দৃষ্টান্ত।
পরিবার ও শৈশব
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৬ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার পিতা ১৯৪৪ সালে এসএসসি এবং পরবর্তীতে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘ ৩৪-৩৫ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সালে অবসর গ্রহণের পর ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মাতা ছিলেন একজন ধর্মপরায়ণ ও মেধাবী গৃহিণী, যিনি পবিত্র কোরআনের অধিকাংশ অংশ মুখস্থ রাখতেন।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও শিক্ষার গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বড় বোন নার্সিংয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে চট্টগ্রাম বিএসসি নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। বড় ভাই সরকারি সংক্রামক ব্যাধী হাসপাতালে চাকরি শেষে অবসর নিয়েছেন। অন্য ভাইয়েরা সরকারি প্রকল্প, ধর্মীয় শিক্ষা ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
শিক্ষাজীবন
ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা ১৯৮৬ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ৫টি লেটারসহ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন এবং জেলা বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭ম স্থান অধিকার করেন।
পরবর্তীতে ঢাকা তিতুমীর কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে এইচএসসি প্রথম বিভাগে পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং প্রথম গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের একজন (বি.এইচ.এম.এস)। ১৯৯৯ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন লাভ করেন।
পেশাগত জীবন
২০০০ সালে ভোলা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পটুয়াখালী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৩ সাল থেকে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে যুক্ত আছেন। এছাড়া ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে হোমিওপ্যাথি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ছাত্ররাজনীতি ও নেতৃত্ব
১৯৮৬ সালে তিতুমীর কলেজে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস (১৯৯৩-৯৪) হিসেবে সফল নেতৃত্ব দেন। তিনি ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জাসাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে সহ-সভাপতি (২০১৭-২০২১) অন্যতম।
রাজনৈতিক সংগ্রাম
ডা. মোল্লা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৮৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মোট ৪৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৮টিতে জামিন লাভ এবং ১০টি মামলা খারিজ হয়েছে। তিনি ৫ বার কারাবরণ করেছেন।
২০০৭ সালে তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা
ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা আহম্মদ আলী মোল্লা ফাউন্ডেশন ও শিশু-কিশোর সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।
এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা. আরিফুর রহমান মোল্লার জীবন একদিকে শিক্ষাবান্ধব পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পেশাগত দায়বদ্ধতার এক দীর্ঘ পথচলার দলিল। চিকিৎসা, শিক্ষা ও রাজনীতির সমন্বয়ে তার বহুমাত্রিক ভূমিকা তাকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিষয় : Bnp
.png)
শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
শিক্ষা, নৈতিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠা এক পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা, ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা। ব্যক্তিজীবন, পেশাগত অর্জন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের সমন্বয়ে তার জীবন আজ এক ব্যতিক্রমধর্মী দৃষ্টান্ত।
পরিবার ও শৈশব
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৬ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার পিতা ১৯৪৪ সালে এসএসসি এবং পরবর্তীতে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘ ৩৪-৩৫ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সালে অবসর গ্রহণের পর ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মাতা ছিলেন একজন ধর্মপরায়ণ ও মেধাবী গৃহিণী, যিনি পবিত্র কোরআনের অধিকাংশ অংশ মুখস্থ রাখতেন।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও শিক্ষার গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বড় বোন নার্সিংয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে চট্টগ্রাম বিএসসি নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। বড় ভাই সরকারি সংক্রামক ব্যাধী হাসপাতালে চাকরি শেষে অবসর নিয়েছেন। অন্য ভাইয়েরা সরকারি প্রকল্প, ধর্মীয় শিক্ষা ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
শিক্ষাজীবন
ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা ১৯৮৬ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ৫টি লেটারসহ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন এবং জেলা বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭ম স্থান অধিকার করেন।
পরবর্তীতে ঢাকা তিতুমীর কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে এইচএসসি প্রথম বিভাগে পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং প্রথম গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের একজন (বি.এইচ.এম.এস)। ১৯৯৯ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন লাভ করেন।
পেশাগত জীবন
২০০০ সালে ভোলা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পটুয়াখালী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৩ সাল থেকে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে যুক্ত আছেন। এছাড়া ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে হোমিওপ্যাথি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ছাত্ররাজনীতি ও নেতৃত্ব
১৯৮৬ সালে তিতুমীর কলেজে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস (১৯৯৩-৯৪) হিসেবে সফল নেতৃত্ব দেন। তিনি ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জাসাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে সহ-সভাপতি (২০১৭-২০২১) অন্যতম।
রাজনৈতিক সংগ্রাম
ডা. মোল্লা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৮৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মোট ৪৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৮টিতে জামিন লাভ এবং ১০টি মামলা খারিজ হয়েছে। তিনি ৫ বার কারাবরণ করেছেন।
২০০৭ সালে তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা
ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা আহম্মদ আলী মোল্লা ফাউন্ডেশন ও শিশু-কিশোর সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।
এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা. আরিফুর রহমান মোল্লার জীবন একদিকে শিক্ষাবান্ধব পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পেশাগত দায়বদ্ধতার এক দীর্ঘ পথচলার দলিল। চিকিৎসা, শিক্ষা ও রাজনীতির সমন্বয়ে তার বহুমাত্রিক ভূমিকা তাকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন