জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ আখ্যা দিয়ে তা নিষিদ্ধের দাবিতে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংলগ্ন দলীয় টেন্ট থেকে এ কর্মসূচির সূচনা হয়।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের দেয়ালে প্রতিবাদী স্লোগান লিখেন। এসব স্লোগানের মধ্যে ছিল “গুপ্ত রাজনীতি এই ক্যাম্পাসে চলবে না”, “গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক”, “স্বচ্ছ ছাত্ররাজনীতি চাই” ইত্যাদি। এ সময় নেতাকর্মীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।
রাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল হক বলেন, শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানাতেই তাদের এই কর্মসূচি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গুপ্ত রাজনীতি’র আড়ালে কিছু সংগঠন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেয়াল লিখনের মাধ্যমে যেভাবে আন্দোলনের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমানেও একইভাবে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ধরনের গোপন বা ‘গুপ্ত’ রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। সকল ছাত্রসংগঠনকে তাদের আদর্শ ও কার্যক্রম প্রকাশ্যে তুলে ধরে সুস্থ ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতের গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধে তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডই সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, সব ছাত্রসংগঠন প্রকাশ্যে ও সুস্থ ধারার রাজনীতি করুক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান থাকতে পারে না।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্রদল নেতারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের অতীত কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়ালে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও এর প্রেক্ষিতে রাবি ক্যাম্পাসে এ দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্যাম্পাসে সহনশীল ও সহাবস্থানের রাজনীতি নিশ্চিত করতে হলে সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জরুরি।
বিষয় : Bnp
.png)
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ আখ্যা দিয়ে তা নিষিদ্ধের দাবিতে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংলগ্ন দলীয় টেন্ট থেকে এ কর্মসূচির সূচনা হয়।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের দেয়ালে প্রতিবাদী স্লোগান লিখেন। এসব স্লোগানের মধ্যে ছিল “গুপ্ত রাজনীতি এই ক্যাম্পাসে চলবে না”, “গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক”, “স্বচ্ছ ছাত্ররাজনীতি চাই” ইত্যাদি। এ সময় নেতাকর্মীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।
রাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল হক বলেন, শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানাতেই তাদের এই কর্মসূচি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গুপ্ত রাজনীতি’র আড়ালে কিছু সংগঠন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেয়াল লিখনের মাধ্যমে যেভাবে আন্দোলনের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমানেও একইভাবে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ধরনের গোপন বা ‘গুপ্ত’ রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। সকল ছাত্রসংগঠনকে তাদের আদর্শ ও কার্যক্রম প্রকাশ্যে তুলে ধরে সুস্থ ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতের গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধে তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডই সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, সব ছাত্রসংগঠন প্রকাশ্যে ও সুস্থ ধারার রাজনীতি করুক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান থাকতে পারে না।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্রদল নেতারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের অতীত কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়ালে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও এর প্রেক্ষিতে রাবি ক্যাম্পাসে এ দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্যাম্পাসে সহনশীল ও সহাবস্থানের রাজনীতি নিশ্চিত করতে হলে সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জরুরি।
.png)
আপনার মতামত লিখুন