গৌরনদী (বরিশাল) থেকে মো. মেহেদী হাসান : পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ঐতিহ্যবাহী খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কমলাপুর গ্রামে ব্যতিক্রমী পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উদ্যোগে খাল রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টায় উপজেলার তুলাতলা বাজারে কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কমলাপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খালের দালাল বাড়ি থেকে বেপারি বাড়ি পর্যন্ত অংশে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আগাছা, প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখতে কাজ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলা এবং খাল-নদী রক্ষায় সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। আয়োজকরা বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন খাল শুধু পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে না, এটি কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান। উদ্যোগটির নেতৃত্ব দেন কৃষিবিদ মো. ফেরদাউস হাওলাদার। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইতালি প্রবাসী বিএনপি নেতা মো. গোলাম কিবরিয়া তালুকদার।
এছাড়াও কর্মসূচিতে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মৃধা, মজিবুর রহমান ফকির, সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম, নজরুল হাওলাদার, শওকত মিয়া, মো. এমদাদুল হক, মাইনুল ইসলাম মানু, হায়দার তালুকদার, লিটন হাওলাদার, নুর ইসলাম তালুকদার, মনজুর হাওলাদার, হালিম ফকির, বাচ্চু হাওলাদার, বদর হাওলাদার, চান্দুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উদ্যোক্তা কৃষিবিদ মো. ফেরদাউস হাওলাদার বলেন, খাল শুধু পানি চলাচলের পথ নয়, এটি আমাদের পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ। একসময় গ্রামের জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ ও নৌ-যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল এসব খাল। কিন্তু অবহেলা, দখল ও দূষণের কারণে অনেক খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। তাই খাল রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হই, তাহলে আমাদের খালগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় কমলাপুরের এই খালটি কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালের অনেক অংশ ভরাট ও দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ এবং পরিবেশ দূষণের মতো নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে পরিচালিত এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, "আমাদের গ্রাম, আমাদের খাল এর পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়।" তারা আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং খাল দখল ও দূষণ রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।
পরিবেশবিদদের মতে, খাল-নদী রক্ষা মানে শুধু একটি জলাধার সংরক্ষণ নয়; বরং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য বজায় রাখা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা। তাই কমলাপুরের এই উদ্যোগ অন্য এলাকাগুলোর জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
.png)
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
গৌরনদী (বরিশাল) থেকে মো. মেহেদী হাসান : পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ঐতিহ্যবাহী খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কমলাপুর গ্রামে ব্যতিক্রমী পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উদ্যোগে খাল রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টায় উপজেলার তুলাতলা বাজারে কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কমলাপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খালের দালাল বাড়ি থেকে বেপারি বাড়ি পর্যন্ত অংশে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আগাছা, প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখতে কাজ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলা এবং খাল-নদী রক্ষায় সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। আয়োজকরা বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন খাল শুধু পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে না, এটি কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান। উদ্যোগটির নেতৃত্ব দেন কৃষিবিদ মো. ফেরদাউস হাওলাদার। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইতালি প্রবাসী বিএনপি নেতা মো. গোলাম কিবরিয়া তালুকদার।
এছাড়াও কর্মসূচিতে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মৃধা, মজিবুর রহমান ফকির, সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম, নজরুল হাওলাদার, শওকত মিয়া, মো. এমদাদুল হক, মাইনুল ইসলাম মানু, হায়দার তালুকদার, লিটন হাওলাদার, নুর ইসলাম তালুকদার, মনজুর হাওলাদার, হালিম ফকির, বাচ্চু হাওলাদার, বদর হাওলাদার, চান্দুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উদ্যোক্তা কৃষিবিদ মো. ফেরদাউস হাওলাদার বলেন, খাল শুধু পানি চলাচলের পথ নয়, এটি আমাদের পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ। একসময় গ্রামের জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ ও নৌ-যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল এসব খাল। কিন্তু অবহেলা, দখল ও দূষণের কারণে অনেক খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। তাই খাল রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হই, তাহলে আমাদের খালগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় কমলাপুরের এই খালটি কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালের অনেক অংশ ভরাট ও দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ এবং পরিবেশ দূষণের মতো নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে পরিচালিত এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, "আমাদের গ্রাম, আমাদের খাল এর পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়।" তারা আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং খাল দখল ও দূষণ রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।
পরিবেশবিদদের মতে, খাল-নদী রক্ষা মানে শুধু একটি জলাধার সংরক্ষণ নয়; বরং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য বজায় রাখা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা। তাই কমলাপুরের এই উদ্যোগ অন্য এলাকাগুলোর জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন