তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি মানবশিশুকে যেভাবে স্নেহ-ভালোবাসা ও যত্নে লালন-পালন করা হয়, ঠিক একইভাবে গাছের চারারও পরিচর্যা করতে হবে। শিশুকে যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাবা-মায়ের যত্নে বড় হতে হয়, তেমনি একটি গাছের চারাকেও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। একসময় সেই গাছই নিজের শক্তিতে ঝড়-বৃষ্টি মোকাবিলা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন’ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার সঠিক পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। জীবনের এই সময়টাতে তারা যে মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলবে, ভবিষ্যতে সেটিই তাদের ব্যক্তিত্ব ও জীবনকে সমৃদ্ধ করবে। গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। গাছ যেমন পরিচর্যার মাধ্যমে বড় হয়ে ওঠে, তেমনি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও শিক্ষার্থীরা বিকশিত হবে।অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপকূলীয় অঞ্চল বরিশালের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম। তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে ফিতা কেটে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।