ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আজ রাত সাড়ে ৩টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এই আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ধানের শীষের প্রার্থী এম জহির উদ্দিন স্বপন ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান পান ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট।
বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় স্বপন বলেন, এই বিজয় গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসীর। মানুষ উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবো। শিক্ষা ও কৃষিখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মন্নান পান ৭৪ হাজার ৮২ ভোট। সান্টু বলেন, এই বিজয় এলাকার সাধারণ মানুষের। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে একটি উন্নত ও নিরাপদ জনপদ গড়তে কাজ করবো।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পান ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। জয়নুল আবেদীন বলেন, এ বিজয় গণমানুষের প্রত্যাশার বিজয়। নদী ভাঙন রোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব আহসান ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল জব্বার পান ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। রাজিব আহসান বলেন, চরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করবো।
বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পান ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। সরোয়ার বলেন, মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। বরিশালবাসী আমাকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত করেছেন। নগর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবো।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পান ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট।আবুল হোসেন খান বলেন, বাকেরগঞ্জবাসীর এই সমর্থন আমাকে আরও দায়বদ্ধ করেছে। কৃষি ও মৎস্য খাতের প্রসারে কার্যকর ভূমিকা রাখবো।
প্রশাসনের বক্তব্য,জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ছয়টি আসনের ফলাফল একত্র করে চূড়ান্ত বার্তা প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বরিশালে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
.png)
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আজ রাত সাড়ে ৩টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এই আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ধানের শীষের প্রার্থী এম জহির উদ্দিন স্বপন ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান পান ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট।
বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় স্বপন বলেন, এই বিজয় গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসীর। মানুষ উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবো। শিক্ষা ও কৃষিখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মন্নান পান ৭৪ হাজার ৮২ ভোট। সান্টু বলেন, এই বিজয় এলাকার সাধারণ মানুষের। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে একটি উন্নত ও নিরাপদ জনপদ গড়তে কাজ করবো।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পান ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। জয়নুল আবেদীন বলেন, এ বিজয় গণমানুষের প্রত্যাশার বিজয়। নদী ভাঙন রোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব আহসান ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল জব্বার পান ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। রাজিব আহসান বলেন, চরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করবো।
বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পান ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। সরোয়ার বলেন, মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। বরিশালবাসী আমাকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত করেছেন। নগর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবো।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পান ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট।আবুল হোসেন খান বলেন, বাকেরগঞ্জবাসীর এই সমর্থন আমাকে আরও দায়বদ্ধ করেছে। কৃষি ও মৎস্য খাতের প্রসারে কার্যকর ভূমিকা রাখবো।
প্রশাসনের বক্তব্য,জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ছয়টি আসনের ফলাফল একত্র করে চূড়ান্ত বার্তা প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বরিশালে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন