ঢাকা   শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা   শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Today বাংলা নিউজ

গৌরনদীতে ভক্তদের দিয়ে পীরকে সেজদা করানো নিয়ে বিতর্ক



গৌরনদীতে ভক্তদের দিয়ে পীরকে সেজদা করানো নিয়ে বিতর্ক

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একাধিক ধর্মীয় আসরে ভক্তদের দিয়ে এক পীরকে সেজদা করানো হচ্ছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও প্রতি সেজদা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি স্থানে আয়োজিত ধর্মীয় মাহফিল ও ওরস অনুষ্ঠানে পীরের আগমনের পর ভক্তদের তার পায়ের সামনে সেজদা করতে দেখা যায়। এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই একে ‘শিরকসদৃশ’ কাজ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জানান, ইসলামে ইবাদতের অংশ হিসেবে সেজদা কেবলমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। কোনো ব্যক্তি, পীর বা ধর্মীয় নেতার সামনে সেজদা করা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, ভক্তির নামে এমন কাজ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে।

অন্যদিকে পীরের অনুসারীরা দাবি করছেন, এটি প্রকৃত সেজদা নয়, বরং ‘তাজিম’ বা সম্মান প্রদর্শনের একটি রীতি। তবে এ ব্যাখ্যা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সমালোচকদের মতে, সেজদার মতো দেখায় এমন কোনো কর্মকাণ্ডই সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল বলছে, ধর্মের নামে ভণ্ডামি বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক বিভাজন বা বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে।

গৌরনদীর সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নামে যদি কেউ ব্যক্তিপূজা বা বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকে ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও আকিদা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও অবহিত করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

Today বাংলা নিউজ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


গৌরনদীতে ভক্তদের দিয়ে পীরকে সেজদা করানো নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একাধিক ধর্মীয় আসরে ভক্তদের দিয়ে এক পীরকে সেজদা করানো হচ্ছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও প্রতি সেজদা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি স্থানে আয়োজিত ধর্মীয় মাহফিল ও ওরস অনুষ্ঠানে পীরের আগমনের পর ভক্তদের তার পায়ের সামনে সেজদা করতে দেখা যায়। এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই একে ‘শিরকসদৃশ’ কাজ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জানান, ইসলামে ইবাদতের অংশ হিসেবে সেজদা কেবলমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। কোনো ব্যক্তি, পীর বা ধর্মীয় নেতার সামনে সেজদা করা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, ভক্তির নামে এমন কাজ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে।

অন্যদিকে পীরের অনুসারীরা দাবি করছেন, এটি প্রকৃত সেজদা নয়, বরং ‘তাজিম’ বা সম্মান প্রদর্শনের একটি রীতি। তবে এ ব্যাখ্যা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সমালোচকদের মতে, সেজদার মতো দেখায় এমন কোনো কর্মকাণ্ডই সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল বলছে, ধর্মের নামে ভণ্ডামি বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক বিভাজন বা বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে।

গৌরনদীর সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নামে যদি কেউ ব্যক্তিপূজা বা বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকে ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও আকিদা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও অবহিত করা এখন সময়ের দাবি।


Today বাংলা নিউজ

প্রধান উপদেষ্টাঃ কাজী বায়েজিদ রনি
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ Today বাংলা নিউজ ২৪
Address: Torki, Bondor, Gournadi, Barishal
Email: todaybanglanews8@gmail.com
Mobile: +8801718854964

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত Today বাংলা নিউজ ২৪