মোটর মেকানিকের ওপর হামলার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত সাংবাদিক এসএম জুলফিকার, থানায় অভিযোগ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান।
বরিশালের গৌরনদীতে মোটর মেকানিকের ওপর হামলার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার গৌরনদী প্রতিনিধি এসএম জুলফিকার। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার টিএন্ডটি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী এসএম জুলফিকারকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত সাংবাদিক এসএম জুলফিকার অভিযোগ করেন, তার ভাগ্নে মুরাদ মেহেদীর কর্মচারী মোটর মেকানিক রিপন কাজী টিএন্ডটি মোড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় পায়ের ওপর পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রিপন কাজীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়।
তিনি জানান, ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারী ও তাদের সহযোগীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে যুবদলকর্মী মাসুম সরদার, তার ছেলে ইয়াসিন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল হাওলাদার, তার ভাই সবুজ হাওলাদার এবং স্থানীয় রিয়াজ উকিলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল হাওলাদার বলেন, “এই হামলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গৌরনদীসহ বরিশালের সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিক এসএম জুলফিকারের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার প্রতিবাদে পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আবুল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, বিএমএসএফ বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জ বালা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক শাহিন হাফিজ, বরিশাল জেলা উত্তর শাখার সভাপতি এসএম মিজান, সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির জেলা উত্তর কমিটির সভাপতি তারেক মাহমুদ আলী, সাধারণ সম্পাদক কাজী বায়েজিদ রনি এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
.png)
রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
মোটর মেকানিকের ওপর হামলার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত সাংবাদিক এসএম জুলফিকার, থানায় অভিযোগ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান।
বরিশালের গৌরনদীতে মোটর মেকানিকের ওপর হামলার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার গৌরনদী প্রতিনিধি এসএম জুলফিকার। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার টিএন্ডটি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী এসএম জুলফিকারকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত সাংবাদিক এসএম জুলফিকার অভিযোগ করেন, তার ভাগ্নে মুরাদ মেহেদীর কর্মচারী মোটর মেকানিক রিপন কাজী টিএন্ডটি মোড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় পায়ের ওপর পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রিপন কাজীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়।
তিনি জানান, ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারী ও তাদের সহযোগীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে যুবদলকর্মী মাসুম সরদার, তার ছেলে ইয়াসিন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল হাওলাদার, তার ভাই সবুজ হাওলাদার এবং স্থানীয় রিয়াজ উকিলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল হাওলাদার বলেন, “এই হামলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গৌরনদীসহ বরিশালের সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিক এসএম জুলফিকারের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার প্রতিবাদে পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আবুল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, বিএমএসএফ বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জ বালা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক শাহিন হাফিজ, বরিশাল জেলা উত্তর শাখার সভাপতি এসএম মিজান, সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির জেলা উত্তর কমিটির সভাপতি তারেক মাহমুদ আলী, সাধারণ সম্পাদক কাজী বায়েজিদ রনি এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
.png)
আপনার মতামত লিখুন