মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ১নং খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘১নং খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ বিরোধী পরিষদ’। সংগঠনটি একই সঙ্গে একটি ধূমপানমুক্ত ও জনসচেতনতামূলক সামাজিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সংগঠনের উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় পরিবার ও সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষ, অভিভাবক, শিক্ষক, তরুণ সমাজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষ্যেই খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে এ পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
পরিষদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইউনিয়নের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখা, অপরাধবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং মানুষের মধ্যে আইন ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী প্রচারণা, জনসচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ পরিষদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করারও অঙ্গীকার করেছে। কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে সংগঠনের সদস্যরা নিজেরা কোনো ধরনের আইন হাতে তুলে নেবেন না। বরং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করবেন।
সংগঠনের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য, বিশেষ প্রতিনিধি, উপদেষ্টা কিংবা কার্যনির্বাহী সদস্য কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করতে পারবেন না এবং কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন না। সংগঠনের সব কার্যক্রম আইন, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরিচালিত হবে।
এছাড়া সংগঠনটি সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ধূমপান ও অন্যান্য ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিষদের দায়িত্বশীলরা বলেন, একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সব পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, দল-মত ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজকে একসঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই পরিষদের অন্যতম লক্ষ্য।
সংগঠনের দায়িত্বশীলরা ১নং খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতাই পারে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও সামাজিক অপরাধমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তুলতে। আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
.png)
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ১নং খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘১নং খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ বিরোধী পরিষদ’। সংগঠনটি একই সঙ্গে একটি ধূমপানমুক্ত ও জনসচেতনতামূলক সামাজিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সংগঠনের উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় পরিবার ও সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষ, অভিভাবক, শিক্ষক, তরুণ সমাজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষ্যেই খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে এ পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
পরিষদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইউনিয়নের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখা, অপরাধবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং মানুষের মধ্যে আইন ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী প্রচারণা, জনসচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ পরিষদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করারও অঙ্গীকার করেছে। কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে সংগঠনের সদস্যরা নিজেরা কোনো ধরনের আইন হাতে তুলে নেবেন না। বরং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করবেন।
সংগঠনের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য, বিশেষ প্রতিনিধি, উপদেষ্টা কিংবা কার্যনির্বাহী সদস্য কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করতে পারবেন না এবং কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন না। সংগঠনের সব কার্যক্রম আইন, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরিচালিত হবে।
এছাড়া সংগঠনটি সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ধূমপান ও অন্যান্য ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিষদের দায়িত্বশীলরা বলেন, একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সব পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, দল-মত ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজকে একসঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই পরিষদের অন্যতম লক্ষ্য।
সংগঠনের দায়িত্বশীলরা ১নং খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতাই পারে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও সামাজিক অপরাধমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তুলতে। আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
.png)
আপনার মতামত লিখুন