ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এবারের মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে। মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মতোই মন্ত্রিসভা গঠনেও অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে থাকছে কিছু ‘চমক’।
প্রবীণদের অগ্রাধিকার
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান-কে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
ভাইস চেয়ারম্যান ও অন্যান্য আলোচিত নাম
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও রেজা কিবরিয়া-র নাম মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের নামও আলোচনায় আছে। নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দলের স্থায়ী কমিটির নারী সদস্যসহ মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের একাধিক সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।
তরুণদের প্রাধান্য, দলীয় সূত্র জানায়, এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ নেতা স্থান পেতে পারেন। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে একাধিক তরুণ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
জোটসঙ্গীদের অংশগ্রহণ ,বিএনপির জোটসঙ্গীদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর।
টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনা, দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-কে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।
এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু-র নামও আলোচনায় আছে।
দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত ছিলেন এমন কয়েকজনকেও নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এখন চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা।
বিষয় : Tarekrahman তারেক রহমান মন্ত্রিসভা
.png)
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এবারের মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে। মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মতোই মন্ত্রিসভা গঠনেও অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে থাকছে কিছু ‘চমক’।
প্রবীণদের অগ্রাধিকার
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান-কে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
ভাইস চেয়ারম্যান ও অন্যান্য আলোচিত নাম
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও রেজা কিবরিয়া-র নাম মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের নামও আলোচনায় আছে। নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দলের স্থায়ী কমিটির নারী সদস্যসহ মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের একাধিক সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।
তরুণদের প্রাধান্য, দলীয় সূত্র জানায়, এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ নেতা স্থান পেতে পারেন। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে একাধিক তরুণ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
জোটসঙ্গীদের অংশগ্রহণ ,বিএনপির জোটসঙ্গীদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর।
টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনা, দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-কে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।
এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু-র নামও আলোচনায় আছে।
দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত ছিলেন এমন কয়েকজনকেও নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এখন চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা।
.png)
আপনার মতামত লিখুন