বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মাদকের চেয়েও ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোন ও সহজ ইন্টারনেট সুবিধার কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম এখন গ্রাম থেকে শহর সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, মাদক যেমন শরীর ধ্বংস করে, অনলাইন জুয়া তেমনি একটি পরিবার, ভবিষ্যৎ এবং অর্থনীতি সবকিছু একসাথে ধ্বংস করে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদীতে বহু তরুণ, এমনকি মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধরাও এই জুয়ার ফাঁদে পড়ছেন। একাধিক পরিবার জানিয়েছে, তাদের সন্তান বা স্বজনরা অনলাইন জুয়ার কারণে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ ঋণের বোঝায় জর্জরিত, আবার কেউ সামাজিকভাবে অপমানিত হয়ে পড়েছেন।
একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জানা যায়, এক ব্যক্তি ৭৫ লাখ টাকা লাভের আশায় প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে অনলাইন জুয়ায় বিনিয়োগ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব হারিয়ে বর্তমানে জীবিকা নির্বাহের জন্য অটোরিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন অসংখ্য উদাহরণ এখন এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া একটি পরিকল্পিত ফাঁদ। এতে কোনো দক্ষতা বা কৌশলের ভূমিকা নেই; বরং ব্যবহারকারীদের প্রথমে কিছুটা জিতিয়ে আসক্ত করা হয়, এরপর ধীরে ধীরে সবকিছু হারানোর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। ফলে একজন ব্যক্তি বুঝে ওঠার আগেই গভীর আসক্তিতে ডুবে যায়।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্র ও এজেন্টরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে এই জুয়ার প্ল্যাটফর্মে টেনে নিচ্ছে। এতে করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর। তবুও দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে অনেকেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। সচেতন মহল মনে করছে, এই প্রবণতা বন্ধ না হলে একটি পুরো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কারো মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপস পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। জুয়ায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই খেলা বন্ধ করা গেলে অনেক তরুণের জীবন রক্ষা পাবে। তারা দ্রুত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস বন্ধ করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে এবং দেশের সামাজিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
.png)
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মাদকের চেয়েও ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোন ও সহজ ইন্টারনেট সুবিধার কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম এখন গ্রাম থেকে শহর সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, মাদক যেমন শরীর ধ্বংস করে, অনলাইন জুয়া তেমনি একটি পরিবার, ভবিষ্যৎ এবং অর্থনীতি সবকিছু একসাথে ধ্বংস করে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদীতে বহু তরুণ, এমনকি মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধরাও এই জুয়ার ফাঁদে পড়ছেন। একাধিক পরিবার জানিয়েছে, তাদের সন্তান বা স্বজনরা অনলাইন জুয়ার কারণে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ ঋণের বোঝায় জর্জরিত, আবার কেউ সামাজিকভাবে অপমানিত হয়ে পড়েছেন।
একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জানা যায়, এক ব্যক্তি ৭৫ লাখ টাকা লাভের আশায় প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে অনলাইন জুয়ায় বিনিয়োগ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব হারিয়ে বর্তমানে জীবিকা নির্বাহের জন্য অটোরিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন অসংখ্য উদাহরণ এখন এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া একটি পরিকল্পিত ফাঁদ। এতে কোনো দক্ষতা বা কৌশলের ভূমিকা নেই; বরং ব্যবহারকারীদের প্রথমে কিছুটা জিতিয়ে আসক্ত করা হয়, এরপর ধীরে ধীরে সবকিছু হারানোর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। ফলে একজন ব্যক্তি বুঝে ওঠার আগেই গভীর আসক্তিতে ডুবে যায়।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্র ও এজেন্টরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে এই জুয়ার প্ল্যাটফর্মে টেনে নিচ্ছে। এতে করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর। তবুও দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে অনেকেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। সচেতন মহল মনে করছে, এই প্রবণতা বন্ধ না হলে একটি পুরো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কারো মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপস পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। জুয়ায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই খেলা বন্ধ করা গেলে অনেক তরুণের জীবন রক্ষা পাবে। তারা দ্রুত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস বন্ধ করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে এবং দেশের সামাজিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন