চট্টগ্রামে কথিত চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সড়কে মাছ ও বরফ ছিটিয়ে বিক্ষোভ করেছেন জেলেরা। বুধবার (২৪ জুন) সকালে নগরের রাসমণি ঘাট গোলচত্বর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় আড়তদার, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারাও অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় শতাধিক জেলে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সড়কে মাছ ও বরফ ছিটিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারও সড়কে ফেলে রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. দিদারুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি চক্র গত ২৩ এপ্রিল থেকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের নামে রাসমণি ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদের দাবি, ঘাটে প্রতি টুকরা বরফে ৫ টাকা, প্রতি কেজি মাছে ৫ টাকা এবং প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত রানি রাসমণী ইলিশ ঘাট ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, জেলেদের পেশা ও জীবিকার স্বার্থে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূসম্পত্তি শাখার এক অফিস আদেশে পতেঙ্গা আউটার রিং রোডের পশ্চিম পাশে অবস্থিত রাসমণী ঘাটে খাস আদায়ের দায়িত্ব দুই ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন সাবেক যুবদল নেতা মো. দিদারুল ফেরদৌস এবং অপরজন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. দিদারুল ফেরদৌসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মাছ বা বরফের ওপর কোনো ধরনের চাঁদা নেওয়া হচ্ছে না। তারা কেবল সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত রাজস্ব আদায় করছেন। তিনি দাবি করেন, কয়েকজন ব্যবসায়ী ইজারা না পেয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনসংযোগ শাখার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আজিজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
.png)
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামে কথিত চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সড়কে মাছ ও বরফ ছিটিয়ে বিক্ষোভ করেছেন জেলেরা। বুধবার (২৪ জুন) সকালে নগরের রাসমণি ঘাট গোলচত্বর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় আড়তদার, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারাও অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় শতাধিক জেলে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সড়কে মাছ ও বরফ ছিটিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারও সড়কে ফেলে রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. দিদারুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি চক্র গত ২৩ এপ্রিল থেকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের নামে রাসমণি ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদের দাবি, ঘাটে প্রতি টুকরা বরফে ৫ টাকা, প্রতি কেজি মাছে ৫ টাকা এবং প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত রানি রাসমণী ইলিশ ঘাট ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, জেলেদের পেশা ও জীবিকার স্বার্থে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূসম্পত্তি শাখার এক অফিস আদেশে পতেঙ্গা আউটার রিং রোডের পশ্চিম পাশে অবস্থিত রাসমণী ঘাটে খাস আদায়ের দায়িত্ব দুই ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন সাবেক যুবদল নেতা মো. দিদারুল ফেরদৌস এবং অপরজন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. দিদারুল ফেরদৌসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মাছ বা বরফের ওপর কোনো ধরনের চাঁদা নেওয়া হচ্ছে না। তারা কেবল সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত রাজস্ব আদায় করছেন। তিনি দাবি করেন, কয়েকজন ব্যবসায়ী ইজারা না পেয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনসংযোগ শাখার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আজিজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন