বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি কলাবাগানের অন্তত ৮০টি ছোট-বড় কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগান মালিকের অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগকারী উপজেলার দক্ষিণ গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামরুজ্জান জানান, গোবর্ধন বকুলতলা মসজিদসংলগ্ন ২৪ শতক সরকারি জমি বৈধভাবে লিজ নিয়ে তিনি শতাধিক কলাগাছের একটি বাগান গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বড় করেছেন। সম্প্রতি অধিকাংশ গাছে মোচা বের হওয়ার সময় হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, সোমবার সকালে নিয়মিত পরিচর্যার জন্য বাগানে গিয়ে দেখেন ছোট-বড় অন্তত ৮০টি কলাগাছ গোড়া থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে তার বাগান প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনার পর তিনি হতবাক হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়দের খবর দেন।
কামরুজ্জান অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে তার বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও একই পক্ষ জোরপূর্বক তার পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ধারণা, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে কলাবাগানে এ তাণ্ডব চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক কষ্ট করে বাগানটি গড়ে তুলেছিলাম। গাছগুলোতে ফল আসার সময় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যাতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বাগানটি দেখতে ভিড় করেন। স্থানীয় বাসিন্দা হালান সরদার বলেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু গাছ কেটে প্রতিশোধ নেওয়ার মতো ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা এমন ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কৃষকের ফসল বা ফলজ বাগান নষ্ট করার ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত করারও শামিল। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী কৃষক দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
.png)
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি কলাবাগানের অন্তত ৮০টি ছোট-বড় কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগান মালিকের অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগকারী উপজেলার দক্ষিণ গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামরুজ্জান জানান, গোবর্ধন বকুলতলা মসজিদসংলগ্ন ২৪ শতক সরকারি জমি বৈধভাবে লিজ নিয়ে তিনি শতাধিক কলাগাছের একটি বাগান গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বড় করেছেন। সম্প্রতি অধিকাংশ গাছে মোচা বের হওয়ার সময় হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, সোমবার সকালে নিয়মিত পরিচর্যার জন্য বাগানে গিয়ে দেখেন ছোট-বড় অন্তত ৮০টি কলাগাছ গোড়া থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে তার বাগান প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনার পর তিনি হতবাক হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়দের খবর দেন।
কামরুজ্জান অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে তার বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও একই পক্ষ জোরপূর্বক তার পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ধারণা, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে কলাবাগানে এ তাণ্ডব চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক কষ্ট করে বাগানটি গড়ে তুলেছিলাম। গাছগুলোতে ফল আসার সময় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যাতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বাগানটি দেখতে ভিড় করেন। স্থানীয় বাসিন্দা হালান সরদার বলেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু গাছ কেটে প্রতিশোধ নেওয়ার মতো ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা এমন ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কৃষকের ফসল বা ফলজ বাগান নষ্ট করার ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত করারও শামিল। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী কৃষক দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন