ঢাকা   রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা   রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Today বাংলা নিউজ

গৌরনদীতে সাপে কাটে গ্রামে, চিকিৎসা হয় শহরে



গৌরনদীতে সাপে কাটে গ্রামে, চিকিৎসা হয় শহরে
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বেশিরভাগ সাপে কাটার ঘটনা গ্রামাঞ্চলে ঘটলেও উপজেলা পর্যায়ে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা। ফলে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের জেলা শহরে নেওয়ার পথেই ঝরে যাচ্ছে প্রাণ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন গ্রামে সাপে কাটার ঘটনা ঘটছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই রোগীকে হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে নেওয়া হয় ওঝার কাছে। ঝাড়ফুঁকে কাজ না হলে তখন ছুটে যাওয়া হয় উপজেলা হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে সাপে কাটা রোগীর জন্য কার্যকর চিকিৎসা না থাকায় শেষ পর্যন্ত জেলা শহরের হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে পথেই মারা যান রোগী।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গত কয়েক বছরে এমন অন্তত পাঁচটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গৌরনদী পৌরসভার বানিয়াশুরি গ্রামের মাজেদা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূ বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক করার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় জেলা শহরে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

একইভাবে, ২০২০ সালের মে মাসে পৌরসভার দিয়াশুর গ্রামের কলেজছাত্র শাওন চৌকিদার (২১) সাপে কাটার শিকার হন। উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা না পেয়ে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া একই বছরে বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামের ফারুক দেওয়ান, সরিকল ইউনিয়নের সাহাজিরা গ্রামের সাপুড়ে রেজাউল করিম এবং ২০২৩ সালে চন্দ্রহার গ্রামের রাজু সরদার সাপে কাটা রোগী হিসেবে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলেও যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে জেলা শহরে নেওয়ার পথে মারা যান।

নিহতদের স্বজনদের দাবি, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে বিষধর সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু থাকলে এসব মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।

উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তৌকির হোসেন জানান, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৬০ জন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে এন্টিভেনমের সংকট রয়েছে। দ্রুত উপজেলা হাসপাতালগুলোতে এন্টিভেনম সরবরাহের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে সাপে কাটা অধিকাংশ রোগীকেই বাঁচানো সম্ভব। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে এন্টিভেনম সরবরাহ এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

Today বাংলা নিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গৌরনদীতে সাপে কাটে গ্রামে, চিকিৎসা হয় শহরে

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশের বেশিরভাগ সাপে কাটার ঘটনা গ্রামাঞ্চলে ঘটলেও উপজেলা পর্যায়ে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা। ফলে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের জেলা শহরে নেওয়ার পথেই ঝরে যাচ্ছে প্রাণ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন গ্রামে সাপে কাটার ঘটনা ঘটছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই রোগীকে হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে নেওয়া হয় ওঝার কাছে। ঝাড়ফুঁকে কাজ না হলে তখন ছুটে যাওয়া হয় উপজেলা হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে সাপে কাটা রোগীর জন্য কার্যকর চিকিৎসা না থাকায় শেষ পর্যন্ত জেলা শহরের হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে পথেই মারা যান রোগী।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গত কয়েক বছরে এমন অন্তত পাঁচটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গৌরনদী পৌরসভার বানিয়াশুরি গ্রামের মাজেদা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূ বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক করার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় জেলা শহরে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

একইভাবে, ২০২০ সালের মে মাসে পৌরসভার দিয়াশুর গ্রামের কলেজছাত্র শাওন চৌকিদার (২১) সাপে কাটার শিকার হন। উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা না পেয়ে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া একই বছরে বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামের ফারুক দেওয়ান, সরিকল ইউনিয়নের সাহাজিরা গ্রামের সাপুড়ে রেজাউল করিম এবং ২০২৩ সালে চন্দ্রহার গ্রামের রাজু সরদার সাপে কাটা রোগী হিসেবে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলেও যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে জেলা শহরে নেওয়ার পথে মারা যান।

নিহতদের স্বজনদের দাবি, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে বিষধর সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু থাকলে এসব মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।

উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তৌকির হোসেন জানান, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৬০ জন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে এন্টিভেনমের সংকট রয়েছে। দ্রুত উপজেলা হাসপাতালগুলোতে এন্টিভেনম সরবরাহের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে সাপে কাটা অধিকাংশ রোগীকেই বাঁচানো সম্ভব। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে এন্টিভেনম সরবরাহ এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।


Today বাংলা নিউজ

প্রধান উপদেষ্টাঃ কাজী বায়েজিদ রনি
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ Today বাংলা নিউজ ২৪
Address: Torki, Bondor, Gournadi, Barishal
Email: todaybanglanews8@gmail.com
Mobile: +8801718854964

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত Today বাংলা নিউজ ২৪