অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে রোডম্যাপটি চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনকে সামনে রেখে কমিশন প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৮০ শতাংশ নিশ্চিত যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। পাশাপাশি পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল। প্রথম ধাপে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করার জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
প্রাথমিক রোডম্যাপ অনুযায়ী, ভোটের ৪১ থেকে ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে। প্রতি ভোটকেন্দ্রের বুথে নারী ভোটার ৫০০ জন এবং পুরুষ ভোটার ৬০০ জন নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, ধাপভিত্তিক নির্বাচনে অতীতে সময়ের ব্যবধান কম থাকায় মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এবার এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সময়সূচি নির্ধারণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, আবহাওয়া, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এবং ধর্মীয় উৎসবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তপশিল ঘোষণার আগে আইন ও বিধি সংশোধন, নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল প্রস্তুত, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সংগ্রহ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত, ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ এবং নির্বাচনী বাজেট অনুমোদনের কাজ শেষ করা হবে।
এ ছাড়া তপশিল ঘোষণার ১৫ দিন আগে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তপশিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমোদনের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে কমিশন।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৯৮১টি। মামলা ও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি। অন্যদিকে দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী। এছাড়া সব উপজেলা পরিষদ এবং নতুন বগুড়া সিটিসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনেই বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সেগুলোও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
.png)
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে রোডম্যাপটি চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনকে সামনে রেখে কমিশন প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৮০ শতাংশ নিশ্চিত যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। পাশাপাশি পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল। প্রথম ধাপে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করার জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
প্রাথমিক রোডম্যাপ অনুযায়ী, ভোটের ৪১ থেকে ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে। প্রতি ভোটকেন্দ্রের বুথে নারী ভোটার ৫০০ জন এবং পুরুষ ভোটার ৬০০ জন নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, ধাপভিত্তিক নির্বাচনে অতীতে সময়ের ব্যবধান কম থাকায় মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এবার এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সময়সূচি নির্ধারণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, আবহাওয়া, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এবং ধর্মীয় উৎসবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তপশিল ঘোষণার আগে আইন ও বিধি সংশোধন, নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল প্রস্তুত, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সংগ্রহ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত, ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ এবং নির্বাচনী বাজেট অনুমোদনের কাজ শেষ করা হবে।
এ ছাড়া তপশিল ঘোষণার ১৫ দিন আগে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তপশিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমোদনের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে কমিশন।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৯৮১টি। মামলা ও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি। অন্যদিকে দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী। এছাড়া সব উপজেলা পরিষদ এবং নতুন বগুড়া সিটিসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনেই বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সেগুলোও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন